বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি সংকট কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।
এই বিশাল পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে বহুমুখী ও ব্যাপকভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের বহুতল ভবনগুলোর ছাদ, কলকারখানা, বড় গুদামঘর, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অব্যবহৃত ও পতিত জমিকে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বিশাল অবকাঠামোগুলোর সোলার প্যানেল স্থাপনের উপযোগী ছাদ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রিড সিস্টেমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।
পরিবেশের সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা সম্প্রতি জানানো হয়েছে। সরকারের নতুন এই কর্মপরিকল্পনার আওতায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব ডিজেলচালিত সেচপাম্পকে সম্পূর্ণভাবে সৌরচালিত সেচপাম্পে রূপান্তর করা হবে। এর ফলে কৃষকদের সেচ কাজের জন্য বাড়তি ডিজেল ক্রয়ের খরচ থেকে মুক্তি মিলবে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে সবুজ জ্বালানির বিপ্লব সাধিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি এই পদক্ষেপে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়। এই প্রকল্পগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।