বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের রবিপুর গ্রামে পানি নিষ্কাশনের মারাত্মক সংকটের কারণে প্রায় একশ একর আবাদি জমি দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, মাঠের পানি নিয়মিত নিষ্কাশিত হওয়ার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ এই জমিতে কোনো ধরনের ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম তো বটেই, অন্যান্য সময়েও জলাবদ্ধতা কিংবা বৃষ্টির পানি জমে থাকায় জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে এলাকার কৃষিজমিগুলো বছরের পর বছর ধরে পড়ে থেকে কৃষকদের জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে।
জমিগুলো চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ওই অঞ্চলের কৃষকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে এবং তারা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষিভিত্তিক এই পরিবারগুলোর আয়ের প্রধান উৎস ছিল এই জমিগুলো থেকে উৎপাদিত ফসল, যা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ফলন না পাওয়ায় এলাকার অনেক কৃষক পরিবারের পক্ষে জীবিকা নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকেরা তাদের এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন মহলে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাননি।
এই অচলাবস্থা নিরসনের দাবিতে সম্প্রতি রবিপুর গ্রামের সাধারণ কৃষকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কৃষকেরা অবিলম্বে এলাকার পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ড্রেনেজ সিস্টেম চালুর জোরালো দাবি জানান। তাদের মতে, জমিতে জমে থাকা পানি বের করে দেওয়ার জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে এই অনাবাদি জমিগুলো আবার আগের মতো উর্বর ফসলি জমিতে রূপ নেওয়া সম্ভব। অন্যথায় এলাকার অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কৃষকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন যে, অনাবাদি এই একশ একর জমিতে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করার পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা না হলে তাদের আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলে তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কৃষি বিভাগ দ্রুত এগিয়ে এসে এই সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করবে—এমনটাই এখন এলাকার সাধারণ কৃষকদের প্রধান প্রত্যাশা।