September 23, 2026, 10:17 pm

হোটেলে সরবরাহের জন্য গোপনে ১৩ ঘোড়া জবাই, ৯ জনের কারাদণ্ড

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, September 23, 2026
  • 8 Time View

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত কারখানার গোডাউনে গোপনে ১৩টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্প্রতি ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোডাউন থেকে নয়জনকে হাতেনাতে আটক করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জবাই করা এই বিপুল পরিমাণ মাংস রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। অবৈধভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রির এই সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

অভিযানের পরদিন দুপুরে সেখানে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং অপরাধের তীব্রতা অনুযায়ী আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুনের নেতৃত্বে এই আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জবাই করা ১৩টি ঘোড়ার মাংস জব্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী বিনষ্ট করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় স্থানীয় পুলিশ সদস্য ছাড়াও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জানান, পশুজবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনের নির্দিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের দায়ে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই সাজা ঘোষণা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয়কারীকে এক বছরের এবং বাকি আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, জামালপুর, ঢাকা ও টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আইন অমান্য করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলার হিরু নামের এক ব্যক্তি মূলত এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের মূল হোতা এবং তিনিই ওই নয়জনকে ঘোড়া জবাই করার জন্য ভাড়া করেছিলেন। তবে অভিযানের সময় মূল হোতা হিরু পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং বর্তমানে তাঁকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় নিষিদ্ধ মাংস সরবরাহ করে আসছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষায় এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com