দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেতা জি চ্যাং-উক তাঁর সুদীর্ঘ অভিনয় জীবনে এবারই প্রথমবার কোনো ঘনিষ্ঠ বা যৌন দৃশ্যে অভিনয় করতে সম্মত হয়েছেন। ওয়েলকাম টু সামদাল-রি এবং দ্য ওয়ার্স্ট অব ইভিলের মতো আলোচিত ধারাবাহিকে কাজ করলেও এমন দৃশ্যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের দ্বিধা ছিল। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নেটফ্লিক্সের নতুন ধারাবাহিক দ্য স্ক্যান্ডাল-এ যুক্ত হওয়ার পেছনের এই অজানা গল্প ও চিন্তার কথা খোলামেলাভাবে শেয়ার করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
নতুন এই কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নানা প্রশ্ন ও মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান জি চ্যাং-উক। তিনি মূলত ভাবতেছিলেন যে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে আদৌ তাঁর অংশ নেওয়া উচিত কি না এবং যদি অভিনয় করেন তবে এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত। তবে শেষ পর্যন্ত পরিচালক জং জি-উয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এবং দ্য স্ক্যান্ডাল ধারাবাহিকের জটিল চো উন চরিত্রটি তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্ট সাহস জুগিয়েছে।
বিখ্যাত ফরাসি উপন্যাস ডেঞ্জারাস লিয়াজোঁ অবলম্বনে নির্মিত এই ধারাবাহিকে চো উন চরিত্রের বহুমুখী আবেগ ও মানসিক দ্বন্দ্ব অভিনেতাকে গভীরভাবে আকর্ষণ করেছে। চরিত্রের পেছনের না বলা কথা, অধরা ভালোবাসার টানাপোড়েন এবং সম্পর্কের জটিল সমীকরণ ফুটিয়ে তোলার তীব্র ইচ্ছে থেকেই তিনি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। চিত্রনাট্য পড়ার পর থেকেই চরিত্রটির চারপাশের পরিস্থিতি তাঁকে এতটাই ভাবিয়েছিল যে তিনি আর এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি।
যদিও তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবুও নগ্নতা ও দৃশ্যগুলোর স্পষ্ট উপস্থাপন নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ কাজ করছিল জি চ্যাং-উকের মনে। জীবনের এই পর্যায়ে এসে এমন সাহসী চরিত্রে অভিনয় করাকে তিনি নিজের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এবং এই ঝুঁকি নেওয়াটা তাঁর অভিনয় জীবনের জন্য সার্থক হবে বলে মনে করেন। প্রচলিত ভাবমূর্তির খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি ভিন্নধর্মী এই চরিত্রটি বেছে নিয়েছেন।
চল্লিশে পা দেওয়ার আগেই নিজের অভিনয়ের পরিসর আরও বাড়িয়ে দর্শকের সামনে সম্পূর্ণ নতুন রূপে ধরা দিতে চান এই অভিনেতা। জীবনের এই দশকে নানা হতাশার মুখোমুখি হলেও নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছেন তিনি। দ্য স্ক্যান্ডাল ধারাবাহিকের মাধ্যমে নিজের আরও বেশি সত্য ও ব্যক্তিগত রূপ দর্শকের সামনে তুলে ধরে একজন জাত শিল্পী হিসেবে নিজের মুন্সিয়ানা প্রমাণ করতে চান জি চ্যাং-উক।