দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে সম্প্রতি কুমিল্লা জেলায় একটি বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। রাতের আঁধারে চালানো এই বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ছয় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মূলত স্থানীয় পর্যায়ে উঠতি বয়সী তরুণদের নানা ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিপত্র ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, মারামারি, মাদক সেবন ও ইভটিজিংয়ের মতো নানা অভিযোগে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আটকদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন তরুণও রয়েছে, যারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।
স্থানীয় নাগরিকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন অলিগলিতে আড্ডা দিয়ে নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ ঘটিয়ে আসছিল এবং প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রগুলোর মূল হোতা এবং পেছনের পৃষ্ঠপোষকদের সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কুমিল্লার এই সফল অভিযانের পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সংঘবদ্ধ কিশোর অপরাধ চক্রগুলোর বিরুদ্ধে একইভাবে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় কিশোর গ্যাংগুলোর একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই ধরনের ধারাবাহিক এবং কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে তরুণদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের জনজীবন আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।