September 25, 2026, 2:42 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
জানাজা থেকে ফিরেই মারা গেলেন যুবক, এক মহল্লায় ২০ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু রাজধানীর সূত্রাপুরে ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন, ছেলের পর বাবারও মৃত্যু শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগে কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার জামিন পেলেও নতুন মামলা, জেলগেটে ফের গ্রেফতার, আইনের লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের মঞ্চে উঠতেই ওয়াকআউট, বিক্ষোভ সিজারের পরপরই নারীর মৃত্যু, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ ইসরাইলে পুলিশে পদত্যাগের হিড়িক, জনবলের ব্যাপক সংকট গরুর মাংস দিয়ে যেভাবে স্টু বানাবেন, দেখুন রেসিপি বিরামপুর সীমান্তে ৯ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা বিএসএফের, ৩ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি যাত্রাবাড়ীতে বিশেষ অভিযানে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ১৬

সিজারের পরপরই নারীর মৃত্যু, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : Friday, September 25, 2026
  • 14 Time View

বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের ঠিক পরপরই নাজিয়া রহমান মাইশা নামের ত্রিশ বছর বয়সী এক তরুণী উদ্যোক্তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি নগরের রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। নিহত প্রসূতি নারী নগরের কালিজিরা এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত মো. নাজমুর রহমান বাদলের মেয়ে। গর্ভাবস্থা থেকেই তিনি বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্ট্রার ডা. তহুরা আক্তারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ওই চিকিৎসকের পরামর্শেই তাঁকে এই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর নবজাতক কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও মায়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্বজনেরা জানান, সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় মাইশা অপারেশনের জন্য হেঁটে থিয়েটারে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পরপরই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং তিনি বমি করেন। স্বজনদের আরও অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় দায়িত্বে থাকা অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক রোগীর পাশে উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি অন্য রোগীর কাছে চলে গিয়েছিলেন। হাসপাতালের মোট চারটি অপারেশন থিয়েটারের জন্য মাত্র একজন চিকিৎসক দায়িত্বে থাকায় এই বিপত্তি ঘটে এবং প্রধান সার্জন ডা. তহুরা আক্তারের অসাবধানতাও এই মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে তাঁরা দাবি করছেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহত নারীর স্বামী হাফিজ আহমেদ বলেন, যে মানুষটি সুস্থ পায়ে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করলেন, তাকে কেন মৃত অবস্থায় বাইরে আনা হলো? চিকিৎসকদের এমন দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে স্বজনদের আরও অভিযোগ, অপারেশনের পরপরই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে রোগীর অবস্থাকে আশঙ্কাজনক দেখিয়ে দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে হাসপাতালে আনার পথেই ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত ডা. তহুরা আক্তার ও ডা. সোহেল মিয়া আত্মগোপন করেছেন এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলোও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তবে প্রসূতির মৃত্যুর এই ঘটনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপক সাহিল আহমেদ সাকিব জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হলেও পরিবারের অনুরোধেই পরবর্তীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর দাবি, অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটে হঠাৎ করে রোগীর রক্তচাপ কমতে শুরু করে এবং তিনি একাধিকবার বমি করেন। বমি করার সময় খাদ্যনালীর খাবার শ্বাসনালিতে আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়ে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁরা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। এদিকে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com