আদালতে হাজিরা দিয়ে কারাগারে ফেরার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে গেছে মোহাম্মদ এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজা ওরফে বাদশা ওরফে পিচ্চি রাজা। সম্প্রতি সন্ধ্যার পর গাজীপুরের নাওজোর হাইওয়ে থানার কাছাকাছি এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ বর্তমানে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন স্থানগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এর সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, ওইদিন সন্ধ্যায় বন্দি রাজাকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঢাকার আদালত থেকে আইনি প্রক্রিয়া ও হাজিরা শেষ করে তাকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময়েই প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের নির্দিষ্ট পথ দিয়ে যাওয়ার সময় এই নাটকীয় পলায়নের ঘটনা ঘটে। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, বন্দি হস্তান্তরের পর তার ওপর নজরদারির দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ দলের ওপর বর্তায়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রিজন ভ্যানটি যখন গাজীপুরের নাওজোর হাইওয়ে থানার কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন আসামি রাজা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার নাম করে ভ্যান থেকে নামার অনুরোধ জানায়। পুলিশ সদস্যরা তার কথায় বিশ্বাস করে গাড়ি থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই সে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত রক্ষীরা তৎক্ষণাৎ তাকে ধাওয়া করলেও মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আসামিকে পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার পর তার পলায়নের ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা নেই। এই পালানোর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেই বর্তমানে প্রয়োজনীয় সকল আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পিচ্চি রাজাকে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদকসহ তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছিল, যা প্রমাণ করে সে দীর্ঘ দিন ধরে অপরাধ জগতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল।