কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় বর্তমানে অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন তরুণ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা আলেক্সান্ডার ওয়াং। প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলা এই উদ্যোক্তা প্রচলিত প্রথা ভেঙে অল্প বয়সেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান স্কেল এআই সম্প্রতি মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ লাভ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। এই বিনিয়োগের ফলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগটির বাজারমূল্য ও গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস আলামোসে জন্মগ্রহণকারী আলেক্সান্ডার ওয়াংয়ের শৈশব কেটেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নিবিড় পরিবেশের মধ্যে। তাঁর বাবা ও মা উভয়ই পদার্থবিদ হিসেবে পেশাজীবী ছিলেন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন অস্ত্র কর্মসূচিতে যুক্ত থেকে গবেষণা করেছিলেন। পারিবারিক এই বৈজ্ঞানিক আবহ তাঁর মেধা বিকাশে এবং প্রযুক্তির প্রতি অনুরাগ তৈরিতে দারুণভাবে সাহায্য করে। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তি হয়ে কম্পিউটার সায়েন্স ও গণিত নিয়ে পড়ালেখা শুরু করেন।
তবে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনের দীর্ঘ পথ পাড়ি না দিয়েই মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন এই তরুণ। ২০১৬ সালে সহপ্রতিষ্ঠাতা লুসি গুওকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চালু করেন স্কেল এআই নামের একটি নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা, সেগুলো সঠিকভাবে সাজানো এবং ব্যবহার উপযোগী করে লেবেল করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর এই প্রতিষ্ঠানের কাজের চাহিদাও পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে।
ধীরে ধীরে বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলে স্কেল এআই বিশ্বমানের একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয় এবং ওয়াং বিশ্বের অন্যতম কনিষ্ঠ বিলিয়ন-ডলার উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পান। সম্প্রতি মেটা এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি করে, যার মাধ্যমে তারা প্রায় ৪৯ শতাংশ অংশীদারত্ব অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই মেগা চুক্তির ফলে স্কেল এআইয়ের সামগ্রিক বাজারমূল্য প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয় এবং মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যক্রমে ওয়াং নিজেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত দায়িত্ব লাভ করেন।