September 30, 2026, 12:55 pm

প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেল মরক্কো, সামনে যত চ্যালেঞ্জ

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, September 30, 2026
  • 22 Time View

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ার পর দেশটির সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি। রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাঁকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এই ঐতিহাসিক নিয়োগের মধ্য দিয়ে তিনি আরব বিশ্বের কোনো সরকারের নেতৃত্বদানকারী দ্বিতীয় নারী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি লাভ করলেন। এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বাউদেন এই বিরল মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন। ফতিমা জাহরার এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে মরক্কোর রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পঞ্চাশ বছর বয়সী ফতিমা জাহরা এল মানসুরি মরক্কোর রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী মুখ। তিনি এর আগে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক শহর মারাকেশের মেয়র হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখানুশের মন্ত্রিসভায় আবাসন ও নগরনীতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পেশাগত জীবনে একজন দক্ষ আইনজীবী ফতিমা জাহরা দেশ ও দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। করপোরেট আইনে বিশেষ পারদর্শী এই নারী নেতা ২০০৮ সালে অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি বা পিএএম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন এবং দ্রুত নিজের নেতৃত্বগুণের প্রমাণ দেন।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী পার্লামেন্টে সর্বোচ্চ আসন অর্জনকারী দলের মধ্য থেকেই রাজা সরকারপ্রধান মনোনীত করে থাকেন। ফতিমা জাহরা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে তাঁর দলেরই আরেক প্রভাবশালী নেতা ফৌজি লেকজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ফতিমা জাহরার ওপরই আস্থা স্থাপন করেন। তাঁর দল নির্বাচনে ৯৭টি আসন লাভ করলেও ৩৯৫ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৯টি আসন থেকে দূরে রয়েছে। ফলে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ না থাকায় ফতিমা জাহরাকে এখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন জোট গঠনের জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে ফতিমা জাহরার সামনে বেশ কিছু বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। নির্বাচনের পরে ইসলামপন্থী দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ৫৪টি আসন পেয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে তারা জোটে যাবে না। অন্যদিকে বিগত সরকারের শরিকদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তো রয়েছেই। এমন এক পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সংসদীয় সমর্থন নিশ্চিত করে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করাই হবে তাঁর প্রথম এবং প্রধান কাজ। তাছাড়া রক্ষণশীল সমাজে নারী নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে তাঁকে বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়েও কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com