October 2, 2026, 7:31 am
সর্বশেষ সংবাদ:
চিনি: মিষ্টি স্বাদের আড়ালে যে ঝুঁকি শহরের খালে আটকে পড়া হাঙর দেখতে ছুটল ছয় লাখ মানুষ বাকেরগঞ্জের নিখোঁজ তিন ছাত্রী শ্যামপুর থেকে উদ্ধার করতোয়া নদীর চরে কাশফুলের মায়াবী সৌন্দর্য, ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের গাঁজাসহ আটক খুবির তিন শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার ট্রেলিগ্রাম বৈঠকে উপজেলা আ.লীগের কমিটি ঘোষণা হাসিনার, গোয়েন্দারা অন্ধকারে কুরোসাওয়া পুরস্কার পাচ্ছেন মিপো ও রাসুলফ ছোট পর্দায় এশিয়ান গেমসের সঙ্গে থাকছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের উন্মাদনা মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পজগৎ: পাপেট বাড়ির ‘বাসিন্দাদের’ ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি নিষিদ্ধ আকর্ষণ: আত্মশুদ্ধির ৩ উপায়

মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পজগৎ: পাপেট বাড়ির ‘বাসিন্দাদের’ ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনা

Reporter Name
  • Update Time : Friday, October 2, 2026
  • 7 Time View

প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও পাপেট ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুর পর তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে গড়ে ওঠা শিল্পজগৎ এবং পাপেটগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চিত্রকলায় পড়াশোনা করলেও শিল্পের প্রায় প্রতিটি শাখায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন এই গুণী শিল্পী। বিশেষ করে পাপেটশিল্পের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রতিটি ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই শিল্প মাধ্যমটিকে নিজের সাধনা হিসেবে লালন করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘদিনের সহশিল্পীরা তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা এবং বর্ণিল পাপেট সংগ্রহশালাটি সংরক্ষণ করা নিয়ে গভীর চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

শিল্পীর বাড়ির নিচতলায় রয়েছে তাঁর সুপরিসর স্টুডিও এবং ওপরের তলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পাপেট বাড়িটি যেন এক জাদুকরি ভুবন। বিটিভির জনপ্রিয় পাপেট অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’-র শুটিং থেকে শুরু করে পুতুল তৈরির যাবতীয় কারিগরি কর্মযজ্ঞ চলত এই নিভৃত ঘরেই। জাপিত জীবনের দীর্ঘ সময়ে মুস্তফা মনোয়ার নিজেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাঠের গুঁড়ি, কাপড় ও ধাতব যন্ত্রপাতির সাহায্যে প্রতিটি পাপেট চরিত্র তৈরি করতেন। একটিমাত্র পাপেট চরিত্র তৈরি করতে প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় লাগত এবং পুতুলগুলোতে প্রাণবন্ত ভাব ফুটিয়ে তুলতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করতে হতো পুরো দলকে।

এই পাপেট বাড়িতে এখনো সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় এক শ জীবন্ত ও বর্ণিল পাপেট চরিত্র, যার মধ্যে রয়েছে পারুল, বাউল ভাই ও ষাঁড়ের মতো জনপ্রিয় সব সৃষ্টি। ঘরের দেওয়ালে ও টেবিলে ছড়িয়ে থাকা ছেনি, তুলি, রঙের কৌটা কিংবা সেলাই কাটার সরঞ্জাম শিল্পীর কাজের প্রতি তাঁর আজীবন নিবেদনের সাক্ষ্য বহন করছে। তবে এখানেই পড়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে ‘বীর পুরুষ’ এবং বিখ্যাত ছোটগল্প ‘সুভা’ পাপেট চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার কিছু অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি ও পরিকল্পনা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিল্পী এসব কাজ পুরোপুরি শেষ করে যেতে পারেননি, যা এখন তাঁর সহশিল্পীদের সহযোগিতায় সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।

শিল্পীর মৃত্যুর পর তাঁর গড়া স্টুডিও এবং অডিও রেকর্ডিংয়ের যন্ত্রপাতিগুলো সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহযাত্রী অনুকূল চন্দ্র দাস ও অন্যান্য কর্মীরা। তবে কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে গিয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যাপ্ত আর্থিক সহযোগিতার অভাব, যা ভবিষ্যতে এই সৃষ্টিগুলোকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ। শিল্পীর পরিবার এখনই তাঁর সমগ্র কাজ নিয়ে কোনো বড় জাদুঘর গড়ার কথা না ভাবলেও, সংগ্রহ থেকে কিছু পাপেট সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পীর অমূল্য সৃষ্টি ও পাপেটজগতের সঠিক সংরক্ষণ ও প্রসার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com