October 3, 2026, 9:40 am
সর্বশেষ সংবাদ:
গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু, ঝুঁকিতে রোগীরা রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামবাহী তিন লরি আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে বিবস্ত্র করার অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মানুষের শরীরে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিহীন পরিবেশের প্রভাব জানতে মহাকাশে গেলেন চার নভোচারী ইউনিফর্ম পরে টহল দেয় আমস্টারডামের ‘পুলিশ বিড়াল’ দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের চাপে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়বে জি-৭ বিলুপ্তির মুখে থাকা কুমিরকে বাঁচাতে কম্বোডিয়া যা করছে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন রণতরিসহ ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ান গেমস ফাইনালের আগে ভারতকে স্বস্তি দিলেন নাকভি

বিলুপ্তির মুখে থাকা কুমিরকে বাঁচাতে কম্বোডিয়া যা করছে

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, October 3, 2026
  • 18 Time View

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় একসময় প্রচুর পরিমাণে সিয়ামিজ প্রজাতির কুমির দেখা মিললেও বর্তমানে প্রাণীটি চরম বিপন্ন। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার লাল তালিকা অনুযায়ী অত্যন্ত সংকটাপন্ন এই প্রজাতিটি একসময় প্রায় বিলুপ্তির পথেই চলে গিয়েছিল। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিরল জলচর প্রাণীটিকে প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখার জন্য নানা ধরনের গবেষণা ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কুমিরের স্বাভাবিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধার করার কাজ শুরু হয়েছে।

প্রজাতিটিকে পুনরুদ্ধারের এই দীর্ঘ যাত্রার পেছনে রয়েছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মূলত ২০০০ সালের দিকে আন্তর্জাতিক গবেষক দল যখন কম্বোডিয়ার বনাঞ্চলে সিয়ামিজ কুমিরের সন্ধান চালাতে যান, তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য তাঁদের দারুণভাবে সহায়তা করেছিল। স্থানীয় মানুষরা অতীতে কুমির দেখার স্থানগুলো নির্দেশ করলে গবেষকেরা সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে অনুসন্ধান চালান। পরবর্তীতে সেই এলাকাগুলোতেই এই বিরল কুমিরের অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ মেলে এবং নতুন আশার আলো দেখা যায়।

স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় কুমিরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই সংরক্ষণবাদীরা ওই অঞ্চলগুলোতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে সেখানে কৃত্রিম প্রজনন এবং ডিম সংগ্রহ করে তা সুরক্ষিত রাখার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। স্থানীয় জেলে ও গ্রামবাসীদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয় যাতে তারা অজান্তে বা শৌখিনতার বশে এই বিপন্ন প্রাণীদের শিকার না করেন। বনের নির্দিষ্ট কিছু জলাশয়কে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে কুমিরের বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফলও পেতে শুরু করেছে কম্বোডিয়ার পরিবেশকর্মীরা। বন্য পরিবেশে সুস্থ সবল সিয়ামিজ কুমিরের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের ছানাদেরও জলাশয়ে সাঁতার কাটতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের যৌথ অংশগ্রহণ না থাকলে এই সাফল্য অর্জন করা কখনোই সম্ভব হতো না। তবে প্রজাতিটিকে চিরতরে বিপদমুক্ত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত তহবিলের গুরুত্ব এখনও অপরিসীম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com