রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই শিশু বিভাগে মোট ৮৬টি শয্যা থাকলেও প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ থেকে তিনশ শিশু ভর্তি থাকছে। নির্ধারিত শয্যার এই তীব্র সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে একই বিছানায় তিন থেকে চারজন শিশুকে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে। এছাড়া স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়লে এই রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা।>
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনের তুলনায় জনবল সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শিশু বিভাগে ১৫০ জন নার্সের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৫০ জন। এর ফলে স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গত সেপ্টেম্বর মাসে এই বিভাগটিতে ৫৯ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসের মতো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ক্রস ইনফেকশন বা পারস্পরিক সংক্রমণের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এছাড়া জন্ডিসে আক্রান্ত নবজাতকদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ফটোথেরাপি মেশিনের ঘাটতি রয়েছে এবং অনেক সময় একই মেশিনে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।>
রোগীর স্বজনেরাও হাসপাতালে এসে চরম দুর্ভোগ ও উৎকণ্ঠার শিকার হচ্ছেন। কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অভিভাবকেরা দীর্ঘদিন ধরে মেঝেতে বা গাদাগাদি করে শিশু নিয়ে অবস্থান করছেন। কাঙ্ক্ষিত সেবা ও স্থান পাওয়ার আশায় এসে অনেকেই শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিল সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে থাকা শিশুদের মায়েরা ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।>
এই চিকিৎসাসংকট নিরসনের উপায় হিসেবে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা নতুন শিশু হাসপাতালটি চালুর তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। নগর ভবনের কাছাকাছি প্রায় সাত বছর আগে এক শয্যার একটি আধুনিক শিশু হাসপাতাল নির্মিত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। যদিও সম্প্রতি সেখানে কিছু আসবাবপত্র এসে পৌঁছেছে এবং সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন ও চিকিৎসকদের পদায়ন না পাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ সেবা শুরু করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আধুনিক শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা গেলে রংপুর মেডিকেলের ওপর বর্তমানের এই প্রচণ্ড চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।>