ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের ভূখণ্ডগুলো পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। সম্প্রতি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, দেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। এর পরপরই সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বিদ্রোহীদের অবিলম্বে অস্ত্র সমর্পণ করার কঠোর বার্তা দেন।
ইয়েমেনের সরকার পরিচালিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই এই পাল্টা আক্রমণ চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে পাশে থাকার জন্য সৌদি আরবকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি। পাশাপাশি, আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ইয়েমেন সরকারের এই ন্যায্য লড়াইয়ের পক্ষে জোড়ালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিকভাবে আনসার আল্লাহ নামে পরিচিত হুতি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। গত এক দশকে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন জোটের নানামুখী সামরিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও তাদের পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি, বরং ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তারা সামরিক শক্তি আরও বাড়িয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ প্রায় দেড়শ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা হুতিদের দখলে চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে সরকারি বাহিনী যখন অভিযানের ঘোষণা দিচ্ছে, তখন হুতি বিদ্রোহীরাও পাল্টা শক্তি প্রদর্শনের দাবি করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদ ও খুরাইস অঞ্চলে অবস্থিত সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এসব দাবির সত্যতা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, তাইজ শহরের নিকটবর্তী কৌশলগত পাহাড়ি এলাকায় হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির ফলে নতুন করে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই গৃহযুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই এক চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় দেশটির বহু এলাকার মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং প্রতি চারটি পরিবারের প্রায় তিনটিই তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও বেশি অবনতির আশঙ্কায় রয়েছে।