October 5, 2026, 3:19 am

শিক্ষকসংকটে শিখনে ঘাটতি

Reporter Name
  • Update Time : Monday, October 5, 2026
  • 16 Time View

দেশের প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রায় প্রতিটি স্তরেই বর্তমানে শিক্ষকসংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার খাজনাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানেই প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পঠনপাঠন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষক গড়ার এই কারিগরদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা না গেলে মেধাবী মুখগুলো এই পেশায় আসতে উৎসাহী হবে না।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলা-জটিলতা এবং নানা প্রশাসনিক কারণে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের হাজার হাজার পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরে প্রধান শিক্ষক এবং মাধ্যমিক স্তরে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের তীব্র অভাব রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শহরের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মফস্বলের কলেজগুলোতেও একই ধরনের করুণ চিত্র বিরাজ করছে। নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজ কিংবা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বহু পদ খালি রয়েছে, এমনকি অনেক জায়গায় আইসিটি বা রসায়নের মতো বিষয়ের স্থায়ী শিক্ষক পর্যন্ত নেই। অন্যদিকে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও পর্যাপ্ত যোগ্য প্রার্থীর অভাবে হাজার হাজার পদ শূন্য রয়ে গেছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান সচল রাখতে নানা বিকল্প ব্যবস্থার আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

শিক্ষক সংকট মোকাবিলা এবং এই পেশায় মেধাবীদের আকর্ষণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহল ও সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো বা আলাদা পে-স্কেল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার উঠে আসছে। এছাড়া বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের আর্থিক সম্মাননা প্রদান এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ এবং তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা না গেলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মান দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com