October 6, 2026, 10:46 am
সর্বশেষ সংবাদ:
ভাঙারি কুড়িয়ে চলা বৃদ্ধের ব্যাংকে ৭৭ লাখ টাকা আবারও ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক, বেড়েছে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ফুলপুরে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর সন্তান প্রসব, পিতৃত্বের স্বীকৃতি দাবি সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান গ্রেপ্তার নাইজেরিয়ায় সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, ৩২ যাত্রীর মৃত্যু ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েল রাষ্ট্র, গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা: সিআইএ–এর প্রতিবেদন ৭০ বছর পর আসাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হলো প্রথম নৌযান জন্মসনদে কারও নাম ‘লক্জ্ক্’, কারও ‘ক্‌জ্‌ক্‌ল্‌জ্‌’, কারও ‘দতককা’, ভোগান্তি নাগরিকের সৌদিতে সেনা পাঠাবে তুরস্ক-পাকিস্তান এআই–নির্ভর প্রেম–ভালোবাসার সম্পর্কের ওপর চীনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

ক্যারিয়ার নিয়ে সুন্দর পিচাইয়ের পরামর্শ

Reporter Name
  • Update Time : Monday, October 5, 2026
  • 26 Time View

তরুণ প্রজন্মের পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে দারুণ কিছু কৌশল বাতলে দিয়েছেন অ্যালফাবেট ও গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই। প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে গিয়ে তিনি এমন মানুষের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যারা নিজেদের ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি দক্ষ ও মেধাবী। তার মতে, স্বস্তিদায়ক পরিবেশে থাকার চেয়ে নিজের সামর্থ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা অনেক বেশি জরুরি, যা মানুষকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখাতে সাহায্য করে। গুগলে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এই জীবনদর্শন অর্জন করেছেন এবং বিভিন্ন সময় তা তরুণদের মাঝে শেয়ার করেছেন।

ভারতের চেন্নাইয়ে সাধারণ এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা সুন্দর পিচাইয়ের শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলো আজকের মতো প্রযুক্তিবান্ধব ছিল না। চেন্নাইয়ের সেই দিনগুলোতে একটি রোটারি ফোনের সংযোগ পাওয়ার জন্যই তাকে দীর্ঘ পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তবে জীবনের প্রথম কম্পিউটার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তার ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল। পরবর্তীতে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা এবং হোয়ার্টন স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করার পর তিনি ২০০৪ সালে একজন সাধারণ পণ্য ব্যবস্থাপক হিসেবে গুগলে কর্মজীবন শুরু করেন। নিজের মেধা ও দূরদর্শিতার জোরে তিনি মাত্র এক দশকের মধ্যেই গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের নজরে আসেন এবং ক্রোম, জিমেইল ও ম্যাপসের মতো সফল পণ্যগুলোর নেপথ্য কারিগর হয়ে ওঠেন।

সাধারণত ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানো বা নিজের শক্তির জায়গাগুলো খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও সুন্দর পিচাইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি এমন সব কঠিন পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে যুক্ত করার কথা বলেন, যা মানুষের মনে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি করে। তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলে, যেখানে নিজের দক্ষতা অন্যদের তুলনায় কিছুটা কম বলে মনে হয়, সেখানেই শেখার এবং নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সবচেয়ে বেশি থাকে। আইবিএমের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিনি রোমেটিও ঠিক একই রকম মত প্রকাশ করে বলেছিলেন যে প্রকৃত উন্নতি এবং আরামদায়ক পরিবেশ কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না।

তবে প্রতিদিন ইচ্ছা করে কোনো কঠিন পরিস্থিতি বা জটিল চ্যালেঞ্জ বেছে নেওয়া অনেকের জন্যই বেশ ভীতিজনক এবং কষ্টদায়ক হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই এমন কোনো দল বা বৈঠক এড়িয়ে চলতে চান, যেখানে অন্যরা তাদের চেয়ে বেশি জানে কিংবা নিজেদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু সুন্দর পিচাইয়ের মতে, এই মানসিক বাধা কাটিয়ে উঠতে পারলেই কেবল ক্যারিয়ারে স্থবিরতা দূর করা সম্ভব। ব্যর্থতা কিংবা অনিশ্চয়তাকে জীবনের কোনো বড় আঘাত হিসেবে না দেখে সেগুলোকে অভিজ্ঞতা অর্জনের ধাপ হিসেবে গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তরুণদের প্রতি তার মূল বার্তাটি হলো, সবসময় নিরাপদ আশ্রয়ে না থেকে মাঝেমধ্যে অস্বস্তিকর পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখলেই তবে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com