অর্থনীতি ডেস্ক: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় নতুন একটি গ্যাস কূপের সন্ধান পাওয়া গেছে যা দেশের জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি খবর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী খননকাজ শেষ হওয়ার পর কূপে স্থাপন করা পাইপের মুখে আগুন জ্বেলে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড বা বাপেক্সের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কূপ খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে এই মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপটির অবস্থান। এর আগে একই গ্যাসক্ষেত্রের অধীনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় আরও তিনটি কূপ খনন করা হয়েছিল এবং নতুন এই কূপটিও একই ভূগর্ভস্থ কাঠামোর অংশ হওয়ায় এটিকে সুন্দলপুর-৪ নামে নামকরণ করা হয়েছে। গত জুলাই মাসের শেষের দিকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কূপটির খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছিল।
প্রকল্পের প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিগত দল জানিয়েছে, কূপটিতে অত্যাধুনিক ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে প্রায় দেড় হাজার মিটার পর্যন্ত গভীরতা পর্যন্ত সফলভাবে খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট গভীরতার একটি স্তরে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুত শনাক্ত করা হয়। পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হলে এই গ্যাস পরবর্তীতে জাতীয় জ্বালানি গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট বা ডিএসটি পরীক্ষা পরিচালনার কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই পরীক্ষা পুরোপুরি সম্পন্ন হলে কূপটিতে মোট ঠিক কত পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে এবং এর প্রকৃত উত্তোলন সক্ষমতা কত, সে বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে। তবে প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।