October 7, 2026, 6:44 am
সর্বশেষ সংবাদ:
সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপনে ‘স্বপ্ন সারথী’র সংবর্ধনা মসজিদের বিদ্যুৎ নীতিমালা ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির বসনিয়ার কাছে পোল্যান্ডের হার বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: এক বছরে দারিদ্র্যের ফাঁদে আরও ২১ লাখ মানুষ লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো নিয়ে নিতে পারে ইরান, বললেন ট্রাম্প একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চায়নের সুযোগ শেষ হচ্ছে আজ বিদেশি অনুদানে টান: অর্থায়ন ঝুঁকিতে ২,২০০ এনজিও ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে মিয়ানমারের ১০ হাজার নাগরিককে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া তরুণদের মধ্যে ক্যানসার আক্রান্তের হার বাড়ছে, কারণ কী

বিদেশি অনুদানে টান: অর্থায়ন ঝুঁকিতে ২,২০০ এনজিও

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 7, 2026
  • 17 Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ধনী দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা সংকুচিত হয়ে আসায় বাংলাদেশের এনজিও খাতে তীব্র অর্থায়ন-সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব বেসরকারি সংস্থা সম্পূর্ণভাবে বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল, তাদের কার্যক্রম বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই পরিস্থিতির কারণে ছোট ও মাঝারি আকারের প্রায় দুই হাজার দুইশ এনজিওর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করা না গেলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে পরিচালিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল মূল গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যেখানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর চালানো জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান কয়েকটি দাতা দেশের সহায়তা বাজেট কমানোর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের ওপর। পুরোনো প্রকল্পের অর্থ ছাড় হলেও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, অনুদাননির্ভর সেবাধর্মী এনজিওগুলোর বাজেট গড়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে, যদিও যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম রয়েছে তারা কিছুটা সামাল দিতে পারছে। বিকল্প আয়ের উৎস না থাকায় ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। তহবিল স্বল্পতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান মাঠপর্যায়ে কর্মী ছাঁটাই কিংবা কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হতে পারে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি ও স্যানিটেশন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পরিচালিত তৃণমূল পর্যায়ের জনকল্যাণমূলক কাজগুলো বড় ধরনের হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই সংকট উত্তরণে গবেষণায় সরকারি ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পে এনজিওগুলোকে সম্পৃক্ত করা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআরের পরিধি বাড়ানো এবং সামাজিক ব্যবসার মতো বিকল্প অর্থায়ন উৎসের ওপর জোর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে যোগ্য এনজিওগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে সরকারি তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com