জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার বা উড়ালসড়ক বর্তমানে যানজট নিরসনের পরিবর্তে তীব্র যানজটের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই উড়ালসড়কের টোল প্লাজা, বিভিন্ন ওঠার র্যাম্প, সংযোগ সড়ক এবং সংলগ্ন বাস টার্মিনাল এলাকাকে ঘিরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই শোচনীয় পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে ফ্লাইওভারটি টোলমুক্ত ঘোষণা করা, নিচের সড়ক প্রশস্ত করা এবং বাস চলাচলের ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করার মতো একগুচ্ছ জরুরি সুপারিশ করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামছুল হকের তৈরি করা একটি পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লাইওভারের টোল আদায় প্রক্রিয়ার কারণে একদিকে যেমন যানবাহনের স্বাভাবিক গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সংলগ্ন সড়কগুলোর ওপরও। এই জটিলতা এড়াতে চুক্তির মেয়াদ সমাপ্তির পর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ফ্লাইওভারটি পুরোপুরি টোলমুক্ত করার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে ডিটিসিএর পক্ষ থেকে। তবে যদি টোল আদায় প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হয়, সেক্ষেত্রে দ্রুত আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন বা ইটিসি পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন যে, গুলিস্তান ও চানখাঁরপুলের মতো ব্যস্ত এক্সিট বা নির্গমন সড়কগুলোতে নতুন করে যানজটের তীব্রতা তৈরি হতে পারে।
উড়ালসড়কের ওপর অতিরিক্ত আন্তজেলা বাসের চাপ কমাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বর্তমান প্রবেশ ও নির্গমন র্যাম্পগুলো সঠিকভাবে ব্যবহারের প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে। এমনকি প্রয়োজন সাপেক্ষে যাত্রীবাহী বাসগুলোর জন্য টোলমুক্ত বিশেষ সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনা করার কথা বলেছে ডিটিসিএ। এছাড়া ফ্লাইওভারের আশপাশের অত্যন্ত সংকীর্ণ সড়কগুলো প্রশস্ত করার বেশ কিছু বাস্তবসম্মত সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন দোলাইরপাড় এলাকার বিদ্যমান গোলচত্বরের আকৃতি কিছুটা কমিয়ে চারপাশের সড়কের প্রশস্ততা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ডিটিসিএর অভিমত হলো, রাজধানীর অভ্যন্তরে আন্তজেলা বাসগুলোর প্রবেশ এবং যত্রতত্র অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হলে উড়ালসড়কের ওপর গাড়ির চাপ অনেকটা হ্রাস পাবে।
তবে শুধু ঢাকার ভেতরের এই ফ্লাইওভার বা আশপাশের সড়ক প্রশস্ত করে দীর্ঘমেয়াদী যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এজন্য রাজধানী শহরের চারপাশে দ্রুত একটি কার্যকর সার্কুলেশন নেটওয়ার্ক বা রিং রোড গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ডিটিসিএর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, মিডল রিং রোডের গাজীপুরের কড্ডা থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি রয়েছে এবং কাঞ্চন থেকে ভুলতা পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এছাড়া মূল কাঠামোর কোনো ধরনের ক্ষতি না সাধন করে ফ্লাইওভারের নিচের দিকের সড়কের ধারণক্ষমতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো যায় কি না, তা গভীরভাবে যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।