October 9, 2026, 5:46 am
সর্বশেষ সংবাদ:
মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর চোখের আলো ফেরাতে পারে জিন থেরাপি ভারতীয় নাগরিক রবিউল চতুর্থ দফায় রিমান্ডে জেনারেল হাসপাতাল: হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীকে মশারি দেওয়া হচ্ছে না ‘আমি কে’: সুরা আসরে মুমিনের পরিচয় গড়ার ৪ মূলনীতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: অনুমোদন ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করে চলেছে ডাকসু রপ্তানিতে ছিল শীর্ষে, এখন দেনার দায়ে নিমজ্জিত মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গঠনে নাগরিক দায়িত্বের ওপর জোর জনপ্রশাসন সচিবের বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা ছাড়ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড শাহজালালে সেই মাহদীকে আটকে দিল ইমিগ্রেশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: অনুমোদন ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করে চলেছে ডাকসু

Reporter Name
  • Update Time : Friday, October 9, 2026
  • 18 Time View

জাতীয় ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলেও তা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে একের পর এক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে চলেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ‘আর্তনাদ’ নামের নতুন একটি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে, যা নিয়ে ক্যাম্পাসে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্মরণে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামের আরেকটি স্মৃতিস্তম্ভও তৈরি করেছিল তারা। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এই দুটি স্থাপনার কোনোটি তৈরির জন্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ক্যাম্পাসে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও ডাকসু তা তোয়াক্কা করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে এবং একে দ্বৈত প্রশাসনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রক্টর অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ডাকসুর প্রধান কাজ হলো শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা এবং তাদের স্বার্থরক্ষা করা, কিন্তু তারা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্যাম্পাসে স্থাপনা তৈরি করছে। ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ক্যাম্পাসের সম্পত্তি ও তহবিল নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। এছাড়া ছাত্র সংসদগুলোর যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা ও অনুমোদন সাপেক্ষে নিতে হয়। ফলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ডাকসুর এককভাবে এভাবে স্থাপনা নির্মাণের কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই।

এর আগে ডাকসুর সংস্কারকৃত সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ সে সময় জানায় যে, ডাকসুর এই ধরনের কার্যক্রম প্রচলিত আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শিক্ষক নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপের দাবি তোলে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মোজাদ্দেদী আলফেসানী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ দাবি করেছেন যে, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের বিষয়টি নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচিত হয়েছিল এবং সেখানে উপাচার্যও উপস্থিত ছিলেন। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন যে, ইসি সভায় কোনো বিষয়ে আলোচনা হওয়া মানেই চূড়ান্ত অনুমোদন বা সম্মতি নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শহীদদের স্মরণে মনুমেন্ট নির্মাণের কাজ করছে, সেখানে ডাকসুর এভাবে একক সিদ্ধান্তে স্থাপনা তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। এই পুরো ঘটনার তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com