অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দল জয়লাভ করার পর দেশটির শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য উত্থান পরিলক্ষিত হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বড় ব্যবধানে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আশাবাদী মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে গত বুধবার মার্কিন প্রধান শেয়ারবাজারের সূচকগুলোতে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ডাও জোন্স সূচকটি নির্ধারিত সময়ে এক দিনে তাদের সর্বোচ্চ বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে যে, সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসের ওপর রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ে বিভক্ত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বিশেষ করে টেক্সাসে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা রিপাবলিকান আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছেন জিনা হিনোজোসা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই ইতিবাচক মনোভাবের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন যে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ফলে ট্রাম্পের বাণিজ্য এবং রাজস্ব নীতির ক্ষেত্রে কিছু আইনি বা রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারেও বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৪ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও বেশ খানিকটা হ্রাস পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে ওয়াশিংটনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।