November 6, 2026, 7:53 am

তেলপারই খাল: গাইড ওয়ালে আটকে কোটি টাকার সেতু

Reporter Name
  • Update Time : Friday, November 6, 2026
  • 16 Time View

জাতীয় ডেস্ক: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের দমদমা এলাকার তেলপারই খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল দীর্ঘদিন আগে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতির কারণে বর্তমানে নির্মাণাধীন সেতুটি মাঝপথে থমকে আছে। খালের দুই পাড়ে কেবল দুটি গাইড ওয়াল তৈরি করে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে এবং সেখানে মরিচা ধরা রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ অসমাপ্ত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছৈছে এবং তাদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে তেলপারই খালের ওপর ১৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই সেতু নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং কাজটি পায় মেসার্স কিং করপোরেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক জটিলতা পেরিয়ে ২০২৩ সালের জুনে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় আরও এক বছর পর। এরপর নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে সেতুটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি মাত্র ষাট শতাংশ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ছিয়াষট্টি লাখ টাকা উত্তোলন করেছে। কাজের এমন কচ্ছপগতির কারণে প্রকল্প এলাকায় তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

পাহাড়ি এই খালের ওপর স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় স্থানীয় লোকজনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে পারাপার হলেও পাহাড়ি ঢলে প্রতিবারই তা ভেঙে যায়। স্থানীয় কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের খোঁজ মিলছে না দীর্ঘদিন ধরে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও কাজের জন্য জোরালো কোনো তদারকি করা হয়নি। উভয়ের এমন উদাসীনতার কারণে জনদুর্ভোগ দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোতালেব হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা হবে। অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু নাছের জানিয়েছেন, প্রকল্পের মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে এবং কাজ সম্পন্ন না করায় ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহীন আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com