November 7, 2026, 6:36 am

মাগুরায় ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার জমজমাট আসর

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, November 7, 2026
  • 18 Time View

জাতীয় ডেস্ক: ক্রিকেট ও ফুটবলের আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে মাগুরা জেলার মহম্মদপুরে আয়োজন করা হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার। সম্প্রতি উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের ডুমুরশিয়া ডি সি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এই শতবর্ষী ও আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতার আসর বসে। ঐতিহ্যবাহী এই লাঠিখেলা দেখতে চারপাশ থেকে হাজারো নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠটি এক আনন্দঘন মিলনমেলায় রূপ নেয়। ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই শতবর্ষী উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সের মানুষ ছুটে আসেন। বিশেষ করে এই গ্রামীণ ঐতিহ্য উপভোগ করতে মাঠে নারী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত লক্ষণীয় ও প্রশংসনীয়।

প্রতিবছর কার্তিক মাসজুড়ে আয়োজিত এই লাঠিখেলাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে একটি জমজমাট গ্রামীণ মেলারও সূচনা ঘটে। নাগরদোলা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং হরেক রকমের পণ্যের পসরায় চারপাশের পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আয়োজনের প্রশংসা করেন সংশ্লিষ্ট অতিথিরা। বক্তারা জানান, লাঠিখেলাসহ গ্রামবাংলার অন্যান্য প্রাচীন খেলাধুলা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এবং টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আধুনিকতার প্রভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়া এই সংস্কৃতিকে বাঁচাতে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বর্ণিল সাজে ও রংবেরঙের পোশাকে সুসজ্জিত হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা একাধিক দক্ষ লাঠিয়াল দল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোল ও বাঁশির সুরেলা তালে তালে লাঠিয়ালদের অসাধারণ কসরত এবং একে অপরকে ঘায়েল করার অভিনব দৃশ্য উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে। মাঠে চলা রোমাঞ্চকর এই খেলা উপভোগ করার সময় দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি ও উল্লাসে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে নতুন লাঠিয়াল দল তৈরি করা বেশ কঠিন হলেও পুরোনো লাঠিয়ালদের প্রবল আগ্রহের কারণেই এই শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য এখনো টিকে রয়েছে।

সুদূর অতীত থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরতে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। অংশগ্রহণকারী প্রবীণ লাঠিয়ালদের মতে, পূর্বপুরুষদের অনুপ্রেরণাতেই তাদের এই খেলার প্রতি অনুরাগ জন্মেছিল এবং আজও তারা এই ধারা বজায় রেখে চলেছেন। তবে যান্ত্রিকতার যুগে এ ধরনের আয়োজন কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আরও বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল। সুদূর ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরাও এই ধরনের গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com