November 8, 2026, 10:45 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
সৌদি রুটে বিধিনিষেধে বাতিল–স্থগিত ১৮৬ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে ২৩ হাজারের বেশি যাত্রী অগ্রণী ব্যাংকে টাকা রেখে এখন হিসাবের অস্তিত্ব পাচ্ছেন না ৩১৫ গ্রাহক কোন পথে চীনের করিডর? বাংলাদেশের পর্যটনে তুর্কি বিনিয়োগ ও পর্যটক আকর্ষণে বিটিবির উদ্যোগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা-কর্মীদের দেশে এসে মামলার বিচার ও সাজা মোকাবিলা করা উচিত: সেতুমন্ত্রী কফি নয়, লাতে চায়ের রেসিপি দেখুন ‘আমাকে একটু রস দাও’ বলতেই খেজুরের রসে ভরে যায় গ্লাস ভিসা নথির জালিয়াতি কমাতে পারে ভিজিবল ডিজিটাল সিল নারায়ণগঞ্জ এনসিপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হলেন বিএনপির সাবেক এমপির মেয়ে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে লটারি, চূড়ান্ত তালিকা যেখানে পাওয়া যাবে

নদীর ওপর ভাসমান লোহাপট্টির টিকে থাকার লড়াই

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, November 8, 2026
  • 22 Time View

জাতীয় ডেস্ক: কালের পরিক্রমায় ভৈরব নদের গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে এর তীরের ভূপ্রকৃতি ও হাটবাজারের অবস্থান। একসময়ের খরস্রোতা এই নদের পাড়েই গড়ে উঠেছিল চার্লির হাট বা বড় বাজার যার একটি অংশ ছিল লোহাপট্টি। সময়ের বিবর্তনে নদীভাঙনের শিকার হয়ে এই ঐতিহাসিক লোহাপট্টি এখন কেবল ভাসমান অবস্থায় নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বাজারের দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মফজেল অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রবীণ কর্মচারী ভবেশ চন্দ্র শিকদার জানান যে তিনি পাঁচ দশক আগে এখানে জীবিকার সন্ধানে এসেছিলেন। তখন নদ বর্তমানের তুলনায় অনেক দূরে অবস্থান করলেও নদীভাঙনের কারণে তা ধীরে ধীরে লোহাপট্টির একদম কাছাকাছি চলে এসেছে। মূলত অব্যাহত ভাঙনের ফলে নদের তীরের এই জনপদ ও ব্যবসা বাণিজ্য এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় যে সড়কের দুই পাশের যেসব দোকান নদসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত, সেগুলোর সিংহভাগই এখন আক্ষরিক অর্থে পানিতে ভাসমান। এসব পুরোনো ও অস্থায়ী দোকানের নিচে কোনো মাটির ভিত্তি না থাকায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে বাঁশ ও কাঠের খুঁটির ওপর ভর করে দোকানগুলো টিকিয়ে রেখেছেন। নদের ক্রমাগত ভাঙন রোধে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে কোনো স্থায়ী সমাধান না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মশিহুজ্জামান খান জানান যে এর আগে একটি বিদেশি ব্যাংকের অর্থায়নে নদের তীর রক্ষা ও হাঁটার পথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের অনিচ্ছা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পুনর্বাসন সক্ষমতার অভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার উল্লেখ করেন যে বড় বাজারের জমির মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে জটিলতা থাকায় দীর্ঘকাল ধরে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটানো লোহাপট্টির ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে বড় বাজার ও নদী তীর সংরক্ষণের জোরাল দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা চিরতরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাই সংশ্লিষ্ট সব মহলের সহযোগিতায় একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই জনপদ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com