অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সফল ব্যাটার স্টিভেন স্মিথের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে কৌতূহল ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা ক্রিকেটার বর্তমানে টেস্ট র্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনার কথা বলছেন না। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১২৫টি টেস্ট ম্যাচ খেলে তিনি অসাধারণ ৩৭টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। তবে ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসে তিনি আগে থেকেই কোনো বড় বা সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা না করে বরং প্রতিটি সিরিজ ধরে ধরে এগিয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছেন।
আগামী বছর ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার খেলার কথা রয়েছে এবং এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে নিজের উপস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের সংশয় প্রকাশ করেছেন স্মিথ। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টতই জানিয়েছেন যে, আগামী বছর তিনি দলের সঙ্গে থাকবেন কি না সে বিষয়ে তার নিজের কাছেও কোনো নিশ্চিত উত্তর নেই। অ্যাশেজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সিরিজে খেলা সবসময়ই যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য বড় স্বপ্ন হলেও, সেই সময় নিজের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি কেমন থাকবে তা কেবল সময়ই বলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
অবসরের সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ বা তারিখ এখনো চূড়ান্ত করেননি এই অভিজ্ঞ ব্যাটার, কারণ খেলাটার প্রতি তার অনুরাগ ও আনন্দ এখনও ফুরিয়ে যায়নি। গত প্রায় পনেরো বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক যাত্রায় তিনি প্রচুর সাফল্য অর্জন করেছেন এবং খেলাটি এখনো সমানভাবে উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন। ফলস্বরূপ, এখনই ব্যাট প্যাড তুলে রাখার কোনো তাড়া নেই তার মধ্যে, তবে তার কথার ধরন থেকে এটি স্পষ্ট যে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের খুব কাছাকাছি এসে পৌঁছেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন সূচির পাশাপাশি তার সামনে এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আকর্ষণীয় লক্ষ্যও উঁকি দিচ্ছে।
টেস্ট ক্রিকেট ছাড়াও স্মিথের মূল মনোযোগের বড় একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে আগামী বছরের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অলিম্পিক আসর। ক্রিকেট অলিম্পিকে ফেরার সুবাদে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের সামনে। সেই অলিম্পিক স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের সক্রিয়তা বজায় রাখতে চান এবং ইউরোপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানলেও সীমিত ওভারের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আরও কিছুদিন নিজের প্রতিভা মেলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে এই অজি তারকার।
এদিকে আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর স্মিথের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য একটি অন্যরকম মাইলফলক হতে চলেছে। ২০১৮ সালের সেই আলোচিত বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম কোনো টেস্ট সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন তিনি। ওই ঘটনার জেরে এক বছর নিষিদ্ধ থাকার পর অতীতে সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলতে দেশটিতে গেলেও এই প্রথম সেখানে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবেন। তবে পুরনো সেই তিক্ত স্মৃতি বা ঘটনা নিয়ে তার মনে এখন আর কোনো বাড়তি আবেগ বা উৎকণ্ঠা কাজ করে না এবং এটিকে তিনি কেবলই আরেকটি সাধারণ ক্রিকেট সিরিজ হিসেবে দেখছেন।