August 18, 2026, 4:08 pm
সর্বশেষ সংবাদ:

আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন, চ্যাম্পিয়ন হবে কে জানাল পেরুর আধ্যাত্মিক শামন

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, July 18, 2026
  • 54 Time View
72

বিশ্বকাপের ফাইনাল সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন চরমে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই কে হবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশ্লেষক থেকে শুরু করে আধ্যাত্মিক সাধক, এমনকি চিড়িয়াখানার প্রাণীদের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ও আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও এসব পূর্বাভাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবু প্রতিটি বিশ্বকাপের মতো এবারও তা সমর্থকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে।

বিশ্বকাপজুড়ে বিভিন্ন ধরনের পূর্বাভাসের অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ঘানার তান্ত্রিক, জার্মানির এক অর্থনীতিবিদ কিংবা জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সিরিজ ‘দ্য সিম্পসনস’ অনেকের পূর্বাভাসই বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি। তবু ফাইনালকে ঘিরে ভবিষ্যদ্বাণীর ধারাবাহিকতা থেমে নেই।

সর্বশেষ সেই আলোচনায় যুক্ত হয়েছে পেরুর একদল আধ্যাত্মিক শামন। তাদের দাবি, স্পেন কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখবে আর্জেন্টিনা। শামনদের বিশ্বাস, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে জার্সিতে আরও একটি তারকা যোগ করবে।

পেরুর শামন হুয়ান দে দিয়োস গার্সিয়া বলেন, আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে তারা এমন ইঙ্গিত পেয়েছেন যে এবারও আর্জেন্টিনাই বিজয়ী হবে। তার ভাষ্য, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল সহজ হবে না, তবে শেষ পর্যন্ত সব শক্তি আর্জেন্টিনার পক্ষেই থাকবে এবং তারাই ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।

এদিকে ব্রাজিলেও ফাইনাল উপলক্ষে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন হয়েছে। রিও ডি জেনেইরোর বায়ো পার্কে থাকা ‘পটি’ নামের একটি জাগুয়ারের সামনে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের পতাকা সংবলিত দুটি পৃথক বক্স রাখা হয়। কিছুক্ষণ ঘ্রাণ নেয়া ও পর্যবেক্ষণের পর প্রাণীটি আর্জেন্টিনার পতাকাবাহী বক্সটি বেছে নেয়। পার্ক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রতীকী এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাগুয়ারটি আর্জেন্টিনাকেই সম্ভাব্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ‘নির্বাচন’ করেছে।

তবে থাইল্যান্ডের একটি চিড়িয়াখানার আয়োজন ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটির খন কায়েন চিড়িয়াখানায় ‘বয়’ নামের একটি সিংহকে দিয়ে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ফল অনুমানের আয়োজন করা হয়। চিড়িয়াখানার পরিচালক থিপাওয়াদি কিত্তিখুনের তত্ত্বাবধানে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের জাতীয় পতাকার নিচে সিংহটির প্রিয় খাবার শূকরের মাংস ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর প্রাণীটিকে স্বাধীনভাবে খাবার বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিটি ম্যাচের জন্য একই প্রক্রিয়া তিনবার অনুসরণ করা হয়। তিনবারের মধ্যে কোনো একটি দলের পতাকার নিচের খাবার যদি দুইবার বেছে নেয় সিংহটি, সেটিকেই তার প্রতীকী পূর্বাভাস হিসেবে ধরা হয়।

এই পদ্ধতিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ‘বয়’ দুইবারই ফ্রান্সের পতাকার নিচের খাবার বেছে নেয়। ফলে কর্তৃপক্ষের মতে, সিংহটির পূর্বাভাস অনুযায়ী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করবে ফ্রান্স।

ফাইনালের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়ায় দুইবার স্পেনের পতাকার নিচের খাবার নির্বাচন করে ‘বয়’। তাই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের এই প্রতীকী পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে স্পেন।

চিড়িয়াখানার তথ্যমতে, এর আগে সেমিফাইনালের দুটি ম্যাচের ফলও সঠিকভাবে অনুমান করেছিল ‘বয়’। সে স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে ওঠার পূর্বাভাস দিয়েছিল, পরে বাস্তবেও সেই দু’দলই ফাইনালে জায়গা করে নেয়। এ কারণে স্থানীয় দর্শনার্থীদের মধ্যে সিংহটিকে ঘিরে আগ্রহ ও কৌতূহল আরও বেড়েছে।

তবে এ ধরনের আয়োজন নিয়ে ভুল ধারণা না রাখতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন চিড়িয়াখানার পরিচালক থিপাওয়াদি কিত্তিখুন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ম্যাচের ফল নির্ধারণ বা ভবিষ্যদ্বাণী করা নয়। মূল লক্ষ্য ছিল প্রাণীটির স্বাভাবিক আচরণকে উৎসাহিত করা এবং তার মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সিংহের চলাফেরা, খাবার খোঁজার প্রবণতা, ব্যায়াম এবং ইন্দ্রিয় ব্যবহারের সুযোগ বাড়ে, যা প্রাণীকল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও বলেন, এই আয়োজন কোনোভাবেই জুয়া বা বাজি ধরাকে উৎসাহিত, প্রচার কিংবা সমর্থনের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। বরং শিক্ষা, প্রাণীকল্যাণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পর্যটনকে উৎসাহিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

অবশ্য প্রাণীদের মাধ্যমে ফুটবল ম্যাচের ফল অনুমানের বিষয়টি নতুন নয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির বিখ্যাত অক্টোপাস ‘পল’ একের পর এক ম্যাচের ফল সঠিকভাবে অনুমান করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বিশ্বের নানা দেশের চিড়িয়াখানা ও বন্যপ্রাণী পার্কে হাতি, গরিলা, জেব্রা, হাঙরসহ বিভিন্ন প্রাণীকে দিয়ে প্রতীকীভাবে ম্যাচের ফল অনুমানের আয়োজন করা হয়েছে।

চলতি বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের ‘রিতিনিয়া’ নামের একটি হাঙর এবং মেক্সিকোর কয়েকটি প্রাণী উদ্যানের বিভিন্ন প্রাণীকে দিয়ে এমন আয়োজন করা হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পূর্বাভাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; এগুলো মূলত দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীদের বিনোদন দেওয়ার জন্যই আয়োজন করা হয়।

এসব প্রতীকী ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে আলোচনা যতই চলুক, শেষ পর্যন্ত শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঠের লড়াইয়েই। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিউজার্সিতে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হবে বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে। এখন দেখার বিষয়, আধ্যাত্মিক শামন ও ব্রাজিলের জাগুয়ারের পূর্বাভাস সত্যি হয়, নাকি থাইল্যান্ডের সিংহের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ মিলিয়ে স্পেনই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com