ইসরাইলি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রচারণায় ফিলিস্তিনিদের রক্ত ও অধিকারকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খলিল আল-হাইয়া এই মন্তব্য করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা নির্যাতন ও রক্তপাতকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি টিভিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে হামাস নেতা আরও স্পষ্ট করেন যে, ইসরাইলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার কীভাবে আরও বেশি হরণ করা যায় তা নিয়ে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। অথচ তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক মহলের সামনে নিজেদের একটি মানবিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা। কিন্তু বাস্তবে এর সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমনপীড়ন বাড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে খলিল আল-হাইয়া স্মরণ করিয়ে দেন যে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইসরাইলের যেকোনো রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই ফিলিস্তিনিরা চরম ভোগান্তি ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। বিগত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিদের রক্তের ওপর দিয়েই হেঁটেছে ইসরাইলের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তি।
সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে হামাসের এই শীর্ষ নেতা জোর দিয়ে বলেন যে, তাদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের ত্যাগের বিনিময়ে তাদের জাতীয় লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায্য অধিকার অর্জন করা। বিদেশি বা আঞ্চলিক কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রই ফিলিস্তিনিদের এই অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে দমিয়ে রাখতে পারবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।