ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস মোড়ে একটি দ্রুতগতির বাসের চাপায় অটোরিকশার ৭ জন যাত্রী মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ প্রাণ হারিয়েছেন মোট সাতজন। জামালপুর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে গন্তব্যে যাওয়ার পথে রাজিব পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন মারা যান এবং বাকিদের হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের স্বজনরা জানান, নির্মাণশ্রমিক মোফাজ্জল হোসেন লেবু তার বৃদ্ধা মা রশিদা বেগম, মেয়ে মর্জিনা বেগম এবং পাঁচ বছরের নাতি মিলানকে নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়ার ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। জামালের গ্রামের বাড়ি থেকে রওনা হয়ে তারা ময়মনসিংহ বাইপাস মোড় হয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। অন্যদিকে, একই অটোরিকশায় ভালুকার একটি কারখানায় যোগ দিতে স্বামী আকরাম হোসেনকে নিয়ে রওনা হয়েছিলেন মমতা বেগম। কিন্তু বেপরোয়া গতির একটি বাস মুহূর্তের মধ্যে তাদের সেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে থামিয়ে দেয়।
দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। মোফাজ্জলের ভাই মোবারক হোসেন জানান, আনন্দ ও নতুন আশায় ভরপুর এই যাত্রা যে এভাবে শেষ হয়ে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। মমতা বেগমের মা অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, সকালে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কর্মস্থলে ফেরার কথা বলে বেরিয়েছিলেন তার মেয়ে। কিন্তু সামান্য সময়ের ব্যবধানে সেই মেয়ে এবং তার স্বামী দুজনেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই দম্পতির মৃত্যুর ফলে তাদের দুই কন্যাসন্তান এখন সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতের মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো জামালপুর সদরের রানাগাছা ও শরিফপুর ইউনিয়নের নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৃথক জানাজা শেষে পারিবারিক ও সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। বেপরোয়া গতির কারণে ঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে আবারও কঠোর প্রশ্ন তুলেছে।