যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে নিজের নাম উঠে আসা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, এপস্টেইন বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, আজই জানতে পেরেছি, একজন বহিরাগত ব্যক্তি এপস্টেইন–সংক্রান্ত একটি ইমেইলে আমার নাম উল্লেখ করে আমার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, ওই ইমেইলটি ১৪ বছরেরও বেশি আগের। ওই ইমেইল আদান–প্রদানে যুক্ত কোনো ব্যক্তির সঙ্গেই—বিশেষ করে এপস্টিনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
ডিওজে শুক্রবার যে নথিগুলো প্রকাশ করে, সেখানে বিশ্বখ্যাত কয়েকজন ব্যক্তির নাম উঠে আসে। এ তালিকায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ছাড়াও রয়েছেন ধনকুবের বিল গেটস এবং যুক্তরাজ্যের বিতর্কিত সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু।
ভাইরাল হওয়া একটি ইমেইলের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ২০১২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির তারিখে এপস্টিনের এক অজ্ঞাত সহযোগী প্রশ্ন তুলেছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ‘জেস’-এর একটি বৈঠক আয়োজন করা হবে কিনা। এখানে ‘জেস’ বলতে বোঝানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের তৎকালীন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং প্রধান নির্বাহী জেস স্ট্যানলিকে।
ওই ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, যদি আনোয়ার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তিনি দেশটিকে ‘পরিষ্কার’ করবেন এবং সেটি জেপি মরগানের জন্য এক বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। ইমেইল লেখকের নাম বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে গোপন রাখা হয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়, এপস্টেইন ওই ইমেইলের জবাবে সম্ভাব্য বৈঠকের সময় হিসেবে মে মাসের প্রস্তাব দেন এবং জানতে চান, আনোয়ার যুক্তরাষ্ট্র না ইউরোপে সফরে আসবেন কিনা। এমনকি মালয়েশিয়ায় হলিউড সিনেমা নির্মাণের সম্ভাবনার কথাও ‘প্রলোভন’ হিসেবে উল্লেখ করতে বলেন তিনি।
এদিকে, এই নথি প্রকাশের পর বিরোধী দল পার্টি প্রিবুমি বারসাতু মালয়েশিয়া (বারসাতু)-এর যুব শাখা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে তিনি এপস্টেইন বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ করেছিলেন কিনা।
এর জবাবে আনোয়ার ইব্রাহিম তার ফেসবুক পোস্টে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে জানান, বিষয়টি নিয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, এখন আমি জোহর বাহরুতে ঘোরাঘুরি চালিয়ে যাব। এ সময় এপস্টিনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিরক্তি প্রকাশের ইমোজিও যুক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এপস্টেইন তদন্ত সংক্রান্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এসব নথি প্রকাশ করেছে।