বাংলাদেশের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন এবং অত্যাধুনিক তৃতীয় টার্মিনালে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মেনজিস অ্যাভিয়েশন। প্রতিষ্ঠানটি এই টার্মিনালে দ্বিতীয় অপারেটর হিসেবে যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ডলিং বা সেবা প্রদানের সুযোগ পেতে একটি চুক্তি প্রত্যাশা করছে। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে তারা বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন করতে চায় বলে জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত চুক্তিটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে মেনজিস অ্যাভিয়েশন বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরুর প্রথম বছরই প্রায় ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ বেশ বড় এবং এটি দেশের এভিয়েশন খাতের অবকাঠামো ও সেবা মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিশাল অংকের অর্থ মূলত আধুনিক সরঞ্জাম ক্রয়, উন্নত প্রযুক্তি স্থাপন এবং বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করা হবে।
কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং যাত্রী সেবার নানা দিক আধুনিকায়নের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ দেশের সার্বিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সাহায্য করবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে যাত্রী সেবা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে মেনজিসের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কার্যকারিতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে বিদেশি এভিয়েশন সেক্টরের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে এবং যাত্রীরা বিশ্বমানের সেবা উপভোগ করতে পারবেন।
শুধু আর্থিক বিনিয়োগই নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে যা বেকারত্ব দূরীকরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় দক্ষ ও অর্ধদক্ষ তরুণ-তরুণীদের জন্য এভিয়েশন খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। সব মিলিয়ে, মেনজিস অ্যাভিয়েশনের এই ১২ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে।