November 1, 2026, 5:49 am
সর্বশেষ সংবাদ:
ইসরায়েলের রাস্তায় হাজারো মানুষ, ইহুদি-আরব সরকার গঠনের দাবি এইচএসসিতে ক্রীড়াবিদদের উড়ন্ত সাফল্য ফখরের সেঞ্চুরিতে শিরোপা পাকিস্তানের শুধু জিপিএ নয়, নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হওয়াই শিক্ষার সার্থকতা কলেজে শিক্ষক ৮ জন, পরীক্ষার্থী একজন—তিনিও ফেল দেবিদ্বারে এক মাদ্রাসার ২১ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল মাদক-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান এমপি ফখরুলের যুবসমাজ জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত, চূড়ান্ত পর্ব ২৮ নভেম্বর বিনার গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র উদ্বোধন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়বে ১২ মাস পর্যন্ত

কলেজে শিক্ষক ৮ জন, পরীক্ষার্থী একজন—তিনিও ফেল

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, November 1, 2026
  • 16 Time View

শিক্ষা ডেস্ক: পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম বিপর্যয়কর ফলাফল সামনে এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অথচ তাকে পড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ছিলেন মোট আটজন শিক্ষক। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানটির এবারের পাসের হার সম্পূর্ণ শূন্যে নেমে গেছে। উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের সুলতানাবাদ গ্রামে অবস্থিত এমপিওবিহীন মজিদবাড়িয়া কলেজে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রাজু আহমেদ নামের ওই পরীক্ষার্থী এক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে কলেজটির গৌরবের কিছু অবশিষ্ট থাকেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই দশকেরও বেশি সময় আগে অর্থাৎ ২০০২ সালে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ চব্বিশ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি আজও এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। সরকারি কোনো অনুদান বা আর্থিক সহায়তা না থাকায় কলেজটির পরিচালনা এবং শিক্ষকদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আটজন শিক্ষক সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি স্বীকৃতি না পাওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে যেমন হতাশা কাজ করছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবকাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় বলে জানা গেছে। কলেজটির কোনো নিজস্ব পাকা ভবন বা স্থায়ী অবকাঠামো নেই। বর্তমানে একটি জীর্ণদশাগ্রস্ত টিনশেড ঘরের মধ্যে কোনো রকমে পঠনপাঠন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, ব্লাকবোর্ড, বসার বেঞ্চ এবং অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের চরম অভাব রয়েছে। মৌলিক সুযোগ-সুবিধার এই তীব্র সংকটের কারণে এলাকার শিক্ষার্থীরা এই কলেজে ভর্তি হতে কোনো আগ্রহ দেখায় না। অভিভাবকেরাও তাদের সন্তানদের এমন ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে ভরসা পান না।

কলেজের অধ্যক্ষ মো নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে কলেজটিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেশ সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু দীর্ঘ চব্বিশ বছরেও কলেজটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এবং অবকাঠামোগত তীব্র সংকটের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে। ভালো মানের শিক্ষার্থীরা এখন আর এখানে ভর্তি হতে চায় না বললেই চলে। বাধ্য হয়ে তারা কম মেধার বা ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ওপর ভরসা করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মজিদবাড়িয়া কলেজ থেকে কেবল একজন শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। প্রকাশিত ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজু আহমেদ নামের সেই একমাত্র পরীক্ষার্থী এক বিষয়ে ফেল করায় কলেজটির শতভাগ শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। এই ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com