জাতীয় ডেস্ক: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে দুই কেজি ওজনের একটি বড় ইলিশ ধরা পড়েছে। স্থানীয় মাছ বাজারে নিলামে তোলা হলে সেটি প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকায় বিক্রি হয়, যা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি হয়। জেলে সোহেল খানের জালে মাছটি ধরা পড়ার পর স্থানীয় ঘরামী ফিশের পরিচালক জয়লান ঘরামী প্রতি কেজি তিন হাজার ৬২৫ টাকা দরে মোট সাত হাজার ২৫০ টাকা দিয়ে মাছটি কিনে নেন। ওই জেলের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ তিন বছর পর তার জালে এত বড় আকৃতির ইলিশ ধরা পড়ল, যা তার জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।
তবে সাগরে বড় মাছ মিললেও উপকূলীয় এলাকায় সামগ্রিক ইলিশের প্রাপ্যতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলেরা। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ক্ষতিকর জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে শিকার করার কারণে সাগরে দিন দিন ইলিশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। শখের বশে চড়া দামে মাছটি কেনা ক্রেতা জয়লান ঘরামী জানান, বর্তমানে বাজারে এ ধরনের বড় ইলিশ সচরাচর দেখা যায় না বললেই চলে। তিনি প্রতি মণ এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা দরে এই মাছটি কিনেছেন এবং পরবর্তীতে এটি বিক্রির উদ্দেশ্যে রাজধানীতে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
এদিকে বাজারে ইলিশের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এই সুস্বাদু মাছটি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান বাজারে তিন থেকে চার হাজার টাকা কেজি দরে ইলিশ কেনা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একসময়ে সাধারণ মানুষের পাতে নিয়মিত ইলিশের দেখা মিললেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কেবল বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরাও বলছেন, এত চড়া দামে বড় মাছ কিনে তা দিয়ে খাবার তৈরি ও বিক্রি করা তাদের জন্য বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে সাইজ ভেদে ইলিশের দামেও রয়েছে ব্যাপক তফাত। ছোট আকারের ইলিশ প্রতি কেজি সাড়ে সাতশ টাকা, কিছুটা বড় এক হাজার টাকা এবং মাঝারি সাইজের ইলিশ ১৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় আকারের রাজ ইলিশ তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অপরিকল্পিতভাবে ছোট মাছ ধরা, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বড় ইলিশের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
অন্যদিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি জানান, অবৈধ জালের ব্যবহার রোধ, পানি দূষণ কমানো এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে ইলিশের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হবে। তবে কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী সাগরে বড় ইলিশ পাওয়ার ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং একে সরকারের দেওয়া পূর্বের নিষেধাজ্ঞার ইতিবাচক ফল বলে মনে করছেন।