September 29, 2026, 1:41 am
সর্বশেষ সংবাদ:
গাজা পুনর্গঠন ও ফিলিস্তিনের অধিকারের প্রতি সমর্থন শ্রীলঙ্কার ‘হুমকি দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না’, চুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বাংলাদেশি নাবিক বললেন, ‘কেবিনে থাকলে হয়তো বেঁচে ফেরা হতো না’ ২৬টি স্যাটেলাইট স্থাপনের পর প্রশান্ত মহাসাগরে ল্যান্ডিং করল স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ ব্যক্তিগত ইভেন্টেও আরচারদের হতাশা এটা যৌনতা ও নিজের প্রয়োজন বোঝার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়: ৪১–এ পা দিয়ে রাধিকা নির্বাচনে প্রার্থীর ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা প্রশ্নে রুল অক্টোবরে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি আসছে: রোসাটম ইরানকে নিষেধাজ্ঞার ছাড় দিতে ট্রাম্পের যে শর্ত সিডনিতে শেষ হলো বাংলাদেশি চিকিৎসকদের দুই দিনের বৃহৎ সম্মেলন

গণভোটে সুইজারল্যান্ডে আরও কঠোর নিরপেক্ষতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, September 27, 2026
  • 28 Time View

ঐতিহাসিক কূটনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি আরও কঠোর করার লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত গণভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি ভোটার এই কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক প্রস্তাবের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। প্রস্তাবটি পাস হলে জাতিসংঘের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে দেশটির সরকারের ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ত। এর ফলে ন্যাটোর মতো সামরিক জোটগুলোর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পথও কঠিন হয়ে যেত।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই সুইজারল্যান্ডের বহু পুরোনো নিরপেক্ষতা নীতি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। মস্কো এই প্রস্তাবটির পক্ষে নিজেদের প্রকাশ্য সমর্থন জানালেও সুইজারল্যান্ডের ক্ষমতাসীন সরকার এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল। ডানপন্থী দল সুইস পিপলস পার্টির উদ্যোগে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। গবেষক লুকাস গোল্ডার সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভোটাররা নিরপেক্ষতার মৌলিক ধারণাটি বর্জন করেননি, বরং রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তাদের দৃঢ় অবস্থানই এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস গণভোটের পর গণমাধ্যমকে বলেন যে দেশটির নিরপেক্ষতা নীতি কখনোই জড়তা বা নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং এর প্রয়োগ সবসময়ই নমনীয় রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাফ বা কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নীরব দর্শক হয়ে থাকা তাদের উদ্দেশ্য নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তবে বর্তমান নীতি অনুযায়ী যুদ্ধরত কোনো দেশের কাছেই অস্ত্র সরবরাহ না করার সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসছে না এবং ইউক্রেনও এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য, উনিশ শতকের শুরুর দিকে ভিয়েনা কংগ্রেসের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের চিরস্থায়ী নিরপেক্ষতার নীতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে এবং পরবর্তী সময়ে হেগ কনভেনশনে এর আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। দেশটির অনন্য সরাসরি গণতন্ত্রের ব্যবস্থায় যেকোনো বড় জাতীয় ও সাংবিধানিক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিয়মিতভাবেই এভাবে গণভোটের আয়োজন করা হয়ে থাকে। অতীতের বিশ্বযুদ্ধের সময়েও দেশটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছিল, যদিও নাৎসি জার্মানির সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য তারা পরবর্তীতে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com