রাজধানীর গুলশান এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হঠাৎ মিছিল এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কে আয়োজিত ওই ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা ২৫ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রত্যেক আসামির জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর পুলিশ কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অভিযুক্তদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে আসে। উভয় পক্ষের আইনি শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আসামিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন এই রিমান্ডের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনার দিন দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে সড়কে সমবেত হন। তাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল এবং তারা মিছিল নিয়ে পুলিশ প্লাজার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে তারা একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান বলে অভিযোগে প্রকাশ পায়।
উক্ত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পর পুলিশ বাদী হয়ে গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনে। পরবর্তীতে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতে আসামিদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে রিমান্ডের এই আদেশ প্রদান করেন।