আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় পোশাক কারখানাগুলোর শেষ ধাপের কাজগুলো প্রায় বন্ধের মতো অবস্থায় পড়েছে। বয়লার চালানো না গেলে ফিনিশিং, আয়রন, ড্রয়িং ও প্যাকেজিং করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে জামগড়া, কাঠগড়া, জিরাবো, নরসিংহপুর, বেরুন, শিমুলতলা, পলাশবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, বাইপাইল, জিরানীসহ আশপাশের শিল্প এলাকায় অনেক ইউনিটে শ্রমিকরা হাত মুঠোয় বসে আছেন। কিছু কারখানা সীমিতভাবে বিকল্প প্রযুক্তি চালু করার চেষ্টা করলেও তা সব ক্ষেত্রে কার্যকর নয় এবং উৎপাদনশীলতা কমে গেছে।
শিল্পপুত্রেরা বলছেন, সাম্প্রতিক গ্যাস সংকট আগের তুলনায় তীব্র এবং উৎপাদন পরিকল্পনা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি খরচও বাড়ছে, যা রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রজন সোয়েটারের পরিচালক আহমেদ মোর্তুজা জানান, শিপমেন্ট সময়মতো না পৌঁছালে আন্তর্জাতিক ক্রেতা জরিমানা ধার্য করতে পারে কিংবা ভবিষ্যৎ অর্ডার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। অন্য কর্মী প্রতিনিধি রিপন সরকার আরও বলেন, বিকল্প জ্বালানি প্রয়োগে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যবসায়িক অর্জন কমে যেতে পারে। সংশ্লিষ্টরা সরকার ও গ্যাস সরবরাহ কর্তৃপক্ষকে শিল্পাঞ্চলে নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
অন্যদিকে শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে—কিছু কর্মী কাজ না পেয়ে সময় কাটাচ্ছেন আর দিনের পর দিন এমন অবস্থা বজায় থাকলে অতিরিক্ত ঘণ্টা কমে যাওয়ার বা সাময়িক উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে, বলে সোহরাব হোসেন ও রাজন মত প্রকাশ করেছেন। অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক আমজাদ হোসেন বুলবুল সতর্ক করেছেন যে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দ্রুত ডেলিভারি না দিলে ক্রেতারা অন্য উৎস খুঁজে নেবে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। তিতাস গ্যাসের আশুলিয়া জোনাল বিপণন অফিসের ম্যানেজার প্রকৌলশী আবু ছালেহ মুহাম্মদ খাদেমুদ্দীন জানান, সমস্যার উৎস চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এখনো বলা সম্ভব হয়নি।