আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনার একটা বড় অংশ জুড়েই ছিল এই হরমুজ প্রণালি। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখন চাইলেও পুরোপুরিভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারবে না।
কারণ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির অংশ হিসেবে সেখানে নৌ-মাইন পেতেছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। কিন্তু প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন স্থাপন করা হয়েছিল, তা এখন শনাক্ত করতে পারছে না আইআরজিসি।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, হরমুজে মাইন পাতার জন্য ছোট আকারের রণতরী ব্যবহার করেছে আইআরজিসি। কিন্তু প্রণালীর যেসব জায়গায় মাইন পাতা হয়েছে, তার সবগুলো নথিভুক্ত বা রেকর্ড করা হয়েছে কি না, এটি এখনও স্পষ্ট নয়।
অবশ্য মাইন পাতার তথ্য যে একেবারেই নথিভুক্ত করা হয়নি, তা নয়। কিছু এলাকায় মাইন স্থাপনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে আইআরজিসি; কিন্তু সেখানেও সমস্যা আছে। আইআরজিসির নথিতে যেসব জায়গায় মাইন পাতার রেকর্ড রয়েছে, সেসব মাইনের বেশির ভাগই সরে গেছে কিংবা ভেসে গেছে। আর মাইন শনাক্ত করা গেলেও সেগুলো অপসারণ করাও একেবারে সহজ হবে না।
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে রাজি হয়। কিন্তু মাইন সমস্যার কারণে দ্রুত জলপথটি নিরাপদ করতে না পারায়, তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের প্রধান অঞ্চলে ‘সমুদ্র মাইনের ঝুঁকি’ উল্লেখ করে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে।