November 3, 2026, 1:19 am
সর্বশেষ সংবাদ:
বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে ৯ লাখ আবেদন রাজনৈতিক দলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্বে উদ্যোগ কম সরকারের ব্যর্থতায় অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে: এবি পার্টি ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি–এডহক কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত সরকারি হাসপাতালে এসেও ওষুধের দাম,পরীক্ষা–নিরীক্ষার খরচে যেভাবে ফতুর হচ্ছেন রোগীরা জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুত করতে বলছে বিভিন্ন দেশ, কীসের আশঙ্কা জলবায়ু রক্ষাকারী গাছের লাখো বীজ ছড়িয়ে দিচ্ছে ড্রোন এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকা উচিত: স্যাম অল্টম্যান মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

জলবায়ু রক্ষাকারী গাছের লাখো বীজ ছড়িয়ে দিচ্ছে ড্রোন

Reporter Name
  • Update Time : Monday, November 2, 2026
  • 21 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ম্যানগ্রোভ বন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা এবং প্রাকৃতিকভাবে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কমানোর ক্ষেত্রে এই বনের তুলনা নেই। এছাড়া বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশ সুরক্ষায় অনন্য অবদান রাখায় এই উদ্ভিদকে জলবায়ুর নায়ক হিসেবে অভিহিত করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগিয়ে এই মূল্যবান বন পুনরুদ্ধার ও এর পরিসর বাড়াতে সম্প্রতি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপক্রান্তীয় উপকূলীয় জোয়ার-ভাটার এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের লবণাক্ত পরিবেশেও টিকে থাকার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। অক্সিজেনের স্বল্পতা থাকা কাদা এবং পরিবর্তনশীল জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতা এই গাছগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিশ্বজুড়ে ম্যানগ্রোভের পঞ্চাশের বেশি প্রজাতি রয়েছে যা সামুদ্রিক ও উপকূলীয় অঞ্চলের তিন শতাধিক বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এসব উদ্ভিদের শক্তিশালী শিকড় জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা কমিয়ে উপকূলীয় এলাকার ভূমি ক্ষয় রোধ করতে দারুণভাবে সহায়তা করে।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্থলভাগের বনের তুলনায় ম্যানগ্রোভ চার গুণেরও বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ ও নিজেদের মধ্যে জমিয়ে রাখতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ অ্যালায়েন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে এ ধরনের বনগুলোতে প্রায় একুশ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সংরক্ষিত রয়েছে। আবুধাবি পরিবেশ সংস্থার সামুদ্রিক গবেষকরা পরিবেশ সুরক্ষায় এই বনকে প্রকৃতির অন্যতম প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করছেন। আশির দশক থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের ফলে বিগত কয়েক দশকে ওই অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনের বিস্তার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুর্গম ও জোয়ার-ভাটাপ্রবণ এলাকায় মানুষের পক্ষে সরাসরি প্রবেশ করে চারা রোপণ করা বেশ দুরূহ এবং এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সমস্যার সমাধানে ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণের কাজে বিশেষভাবে তৈরি আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে এই প্রযুক্তির সাহায্যে লাখ লাখ বীজ সফলভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যেখানে প্রতিটি ড্রোন একসঙ্গে প্রায় ছয় হাজার বীজ বহন করতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে দশ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া এই বনগুলোর জন্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতিরিক্ত পানির কারণে গাছ ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি পানির প্রবাহ কমে গেলেও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে কেবল বনের আয়তন বৃদ্ধি করাই নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি সুস্থ ও টেকসই বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গবেষকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রাকৃতিক এই সম্পদ রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকার পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও উপযুক্ত জলীয় পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com