October 9, 2026, 5:47 am
সর্বশেষ সংবাদ:
মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর চোখের আলো ফেরাতে পারে জিন থেরাপি ভারতীয় নাগরিক রবিউল চতুর্থ দফায় রিমান্ডে জেনারেল হাসপাতাল: হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীকে মশারি দেওয়া হচ্ছে না ‘আমি কে’: সুরা আসরে মুমিনের পরিচয় গড়ার ৪ মূলনীতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: অনুমোদন ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করে চলেছে ডাকসু রপ্তানিতে ছিল শীর্ষে, এখন দেনার দায়ে নিমজ্জিত মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গঠনে নাগরিক দায়িত্বের ওপর জোর জনপ্রশাসন সচিবের বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা ছাড়ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড শাহজালালে সেই মাহদীকে আটকে দিল ইমিগ্রেশন

জেনারেল হাসপাতাল: হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীকে মশারি দেওয়া হচ্ছে না

Reporter Name
  • Update Time : Friday, October 9, 2026
  • 15 Time View

স্বাস্থ্য ডেস্ক: গাইবান্ধা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাসেবা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেলেও তাদের জন্য কোনো পৃথক ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, যা অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় মশারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড় দিলে সেই মশার মাধ্যমে ভাইরাস সুস্থ মানুষের শরীরে খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পুরোনো ৫০ শয্যার ভবনেই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে কারণ নতুন ভবনের কাজ এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। সম্প্রতি এই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীসহ ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চারশোতে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ২৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে নির্ধারিত শয্যায় জায়গা না পেয়ে অনেককে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দা এবং মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ওয়ার্ডগুলোতে গাদাগাদি পরিবেশ বিরাজ করছে এবং রোগীরা কোনো ধরনের মশারি ব্যবহার না করেই অবস্থান করছেন। তাছাড়া রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং চারপাশের নোংরা পরিবেশ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়েছে।

এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলের তীব্র সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হাসপাতালে সার্জারি, মেডিসিন, ইএনটি, চক্ষু ও অর্থো-সারডিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কোনো কনসালট্যান্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ২৮ জন সহকারী সার্জনের পদ ফাঁকা রয়েছে এবং মাত্র পাঁচজন দিয়ে কার্যক্রম চলছে। জরুরি বিভাগে আটজন মেডিকেল অফিসারের স্থলে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন একা। নার্সিং ইনচার্জ বীণাপাণি গোলজার জানান, ৫০ শয্যার একটি প্রতিষ্ঠানে চার-পাঁচশ রোগী সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং শয্যার অভাবে মেঝেতে থাকা রোগীদের মশারি দেওয়া সম্ভব হয় না।

হাসপাতালের এমন নাজুক পরিস্থিতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ পাওয়া যায়নি। সংবাদকর্মীরা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. শহিদুল্লাহর কক্ষে প্রবেশ করে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে জেলা সিভিল সার্জন মো. রফিকুজ্জামান জানান যে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com