যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ পর্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠকে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি মার্কিন বাজারে প্রবেশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বড় চুক্তি হয়নি। তবে দুই দেশের নীতিনির্ধারক ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে এই আলোচনা চললেও তাতে সুনির্দিষ্ট কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বিশ্ববাজারে গাড়ির উৎপাদন ও সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা চললেও এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো বাণিজ্যিক পথ উন্মুক্ত হয়নি।
বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি না হলেও ভবিষ্যতে ভিন্ন কোনো উপায়ে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ির চাহিদা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদের নাগালে চলে আসতে পারে এসব আধুনিক যান।
প্রধান চীনা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজেদের জোরালো উপস্থিতি তৈরির সুযোগ খুঁজছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড সংখ্যক গাড়ি বিক্রির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে সফলভাবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার পর এখন বিশ্বব্যাপী বাজার সম্প্রসারণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, তুলনামূলক কম দাম, আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বিশাল উৎপাদন ক্ষমতার কারণে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো বিশ্বজুড়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাশ্রয়ী যানবাহনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ মার্কিন প্রজন্মের একটি বড় অংশের কাছে চীনা ইভি ও সংশ্লিষ্ট সবুজ প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।