September 14, 2026, 11:17 pm

দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির মতবিনিময় সভায় হাতাহাতি, আহত ৫

Reporter Name
  • Update Time : Monday, September 14, 2026
  • 14 Time View

লালমনিরহাট জেলা বিএনপির একটি অভ্যন্তরীণ মতবিনিময় সভায় দলের দুই কেন্দ্রীয় নেতার উপস্থিতি সত্ত্বেও তীব্র হট্টগোল ও মারামারির মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বিশৃঙ্খলা দ্রুত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। দুই পক্ষের এই সংঘর্ষের ফলে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। ঘটনার একটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আকস্মিক সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. আখেরুজ্জামান স্বাধীনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো সম্ভব হয়। তবে আদিতমারীর পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান গুরুতর জখম হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় পুরো মিলনায়তনের পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে।

এই সহিংসতার পেছনে মূলত দলীয় কোন্দল ও পূর্ববিরোধ দায়ী বলে জানা গেছে। লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রোকন উদ্দিন বাবলু অভিযোগ করেন যে, সভায় তার উপস্থিতিতেই স্থানীয় কয়েকজন নেতা তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেন। আদিতমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক এবং কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম এই উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে মৌখিক বাকবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মূলত আসন্ন নির্বাচনকেন্দ্রিক মনোনয়ন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। লালমনিরহাট-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন এবং তার নিকটাত্মীয় ও স্থানীয় অন্য এক নেতার অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সভা চলাকালে সেই পুরনো ক্ষোভই বিস্ফোরিত হয়। এদিকে ঘটনার ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গেলেও তার আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায় এবং এ বিষয়ে কোনো পক্ষই থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com