সড়ক দুর্ঘটনায় নিজ দলের কর্মীর মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় কেঁদে ফেলেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার কান্দি ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত ধারাবাশাইল বাজারের পূর্বপাশের বালুর মাঠে জনসভায় অংশ নেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে এস এম জিলানীর মিছিলে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রদীপ অধিকারী (৩০) নামের এক যুবক। উপজেলার কান্দি গ্রামের হরবিলাস অধিকারীর ছেলে প্রদীপ ঢাকা কলেজে পড়েছেন।
প্রদীপের কথা বলতে গিয়ে এস এম জিলানী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকেও কাঁদতে দেখা গেছে।
এস এম জিলানীর নির্বাচনী জনসভা সন্ধ্যার পর শুরু হয়। বিকেল ৪টা থেকে কান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা ঢাক-কাসা বাজিয়ে মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন। এরই মধ্যে দুই খুদে
শিক্ষার্থীকে খালেজা জিয়া সেজে সভাস্থলে আসতে দেখা যায়। এস এম জিলানীসহ সব নেতাকর্মীরা তাদের করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম জিলানী বলেন, ‘এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও আমার একাত্তরের পক্ষে। আর একটি মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও একাত্তরের বিপক্ষে। যখনই বাংলাদেশকে নিয়ে এই স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি ষড়যন্ত্র করেছে, তখনই এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে বেছে নেবেন।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চার লাখ গৃহিণীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে এস এম জিলানী বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকার নিত্যপণ্য কিনতে পারবে। এ ছাড়া কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে তারা বিনামূল্যে সার-বীজসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পাবেন। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দেশের প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হবে স্বাস্থ্য কার্ড।
কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, বিএনপি নেতা কাজী অমিত মাহমুদ, শিক্ষক দিলীপ রায়, জগদীশ মল্লিক, অনিল চন্দ্র বিশ্বাস, ব্যবসায়ী শসীম কুমার রায়, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মান্নান শেখ, কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নোমান মাহমুদ প্রমুখ।