জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি পাহারাদারী করা আমাদের দায়িত্ব। আধা ইঞ্চি মাটিও কাউকে ছাড় দেব না। জুলাই যোদ্ধারা বলেছিল, জীবন দিব জুলাই দিবোনা। আমরাও তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলি, জীবন দিবো মাটি দিবোনা। কোনো আধিপত্যবাদ আর মানা হবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে মাথা উচু করে দাঁড়াবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের যুব সমাজ প্রমাণ করেছে, যেকোনো প্রয়োজনে তারা বুক চিতিয়ে জীবন দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী আচরণ যারা করবে, তাদের লাল কার্ড দেখাতে হবে। জামায়াত যখন দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করল, এ সময় আরেকটা দল চাঁদাবাজিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো।
চট্টগ্রাম প্রতিরোধের রাজধানী জানিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। বর্তমানের বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ারও নয়। আমরা সকলেই মজলুম ছিলাম। আপনারা জালেম হবেন না।
চাঁদাবাজি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে-ওখানে দখলদারি শুরু হয়ে গেল। এসব দখলদারি করতে গিয়ে নিজেরা নিজেদের ২৩৪ জন মানুষকে মেরে ফেলল। এরা বাংলাদেশকে কি দিবে? ২০০৬ সালে অক্টোবরের মত লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে আওয়ামী লীগ যে বার্তা দিয়েছিল এখন এই দলটি একই বার্তা দিচ্ছে। এখন তারা আমাদের পেছেনে লেগেছে। বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমার এক্স আইডি হ্যাক করে একটি জঘন্য বিষয় চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা হ্যাক করেছে, তাদের পেছনে কারা আছে তা বের করব। ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একটি দলের দুর্গের পতন হয়েছে।
যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমার দায়িত্ব তুমি নাও, এবার দেশটা গড়ে দাও। ধর্মে-ধর্মে আর কোনো ভেদাভেদ চাই না। প্রয়োজনে জান দেব, তবুও মায়ের মর্যাদা ক্ষুন্ন হতে দেব না। আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
চট্টগ্রাম বন্দর পুঁজি করে কাউকে স্বার্থ হাসিল করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
সোমবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় এটি ছিল জামায়াত আমিরের পঞ্চম জনসভা। জনসভায় জামায়াত আমির চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শফিউল আলম, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের দলীয় প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক ও চট্টগ্রাম-১০ (খুলশি-পাহাড়তলী) আসনের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীকে পরিচয় করিয়ে দেন।