ইউক্রেন সংঘাতের উত্তাপ ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর দিকেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় একটি অজ্ঞাত ড্রোন ঢুকে পড়ার পর সেটি গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান। দেশটির জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে যে, আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ড্রোনটি প্রতিবেশী বেলারুশ হয়ে লিথুয়ানিয়ায় প্রবেশ করেছিল। পরবর্তীতে দেশটির মধ্যাঞ্চলের প্রাতকুনাই গ্রামের কাছাকাছি এলাকায় সেটিকে সফলভাবে ধ্বংস করা হয়। উল্লেখ্য যে, এই এলাকাটি লিথুয়ানিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কাউনাসের বেশ কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী ড্রোনটিতে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্তাস কাউনাস। তবে ধ্বংস হওয়া ওই ড্রোনটি সরাসরি রাশিয়ার নাকি অন্য কোনো পক্ষের তৈরি, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য এর ধ্বংসাবশেষ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো ধারণা প্রকাশ করেছেন যে, ড্রোনটি সম্ভবত রাশিয়া থেকেই পরিচালিত হয়েছিল। লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর আকাশ সুরক্ষায় নিয়োজিত ইতালীয় যুদ্ধবিমান সময়মতো ড্রোনটি ভূপাতিত করায় সামরিক জোট হিসেবে ন্যাটোর কার্যকারিতা এবং পারস্পরিক নিরাপত্তার বিষয়টি আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সরাসরি আগ্রাসন ও ধারাবাহিক উসকানির একটি অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুলও এই ঘটনার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেছেন, যদিও মস্কোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এর আগে বাল্টিক সাগরে ডেনমার্কের সামরিক হেলিকপ্টারের দিকে রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে ফ্লেয়ার ছোড়ার অভিযোগ করেছিল ডেনমার্ক। ঠিক তার পরের দিনই লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন ভূপাতিত করার এই ঘটনা ঘটায় গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিজ মন্তব্য করেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ের এসব ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দিচ্ছে রুশ কর্মকাণ্ড পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ইউক্রেনীয় সীমান্তের কাছাকাছি বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক ড্রোন হামলার পর নিজেদের দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল পোল্যান্ড। মূলত ২০০৪ সাল থেকেই বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোর আকাশসীমায় নিয়মিত টহল দিয়ে আসছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমানগুলো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধ যে ক্রমান্বয়ে ন্যাটোর সীমানার আরও কাছাকাছি চলে আসছে, তা নিয়ে নতুন করে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মনে।