October 4, 2026, 7:25 am

প্রাণী দিবস আজ: লেপার্ড দুটির কোয়ারেন্টিন শেষ হয়নি ৯ বছরেও

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, October 4, 2026
  • 16 Time View

পাচারের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি লেপার্ড শাবককে মাত্র তিন সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই তিন সপ্তাহের মেয়াদ পেরিয়ে দীর্ঘ নয় বছর অতিবাহিত হলেও তাদের ঠাঁই হয়নি কোনো উন্মুক্ত বেষ্টনীতে। গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালের একটি ছোট্ট খাঁচাতেই কেটে গেছে তাদের শাবক থেকে পূর্ণবয়স্ক হয়ে ওঠার সময়টুকু। অথচ বিশ্ব প্রাণী দিবসের মতো দিনেও এই বন্দিদশা থেকে মুক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ দেখতে পাচ্ছে না প্রাণী দুটি। পর্যাপ্ত আবাসন ও আলাদা বেষ্টনীর অভাবে বছরের পর বছর ধরে দর্শনার্থীদের নজর থেকেও দূরে রয়েছে এই আকর্ষণীয় হিংস্র প্রাণীগুলো।

উদ্ধারের পর থেকেই ২০১৭ সাল থেকে পার্কের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সীমিত পরিসরে কাটছে লেপার্ড দুটির বন্দি জীবন। পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, লোহার বেড়ার ঘেরাটোপে আটকে থাকা প্রাণীগুলোর গাছে চড়া, অবাধে লাফানো কিংবা শিকারের কোনো স্বাভাবিক সুযোগ নেই। ছোট্ট জায়গায় দীর্ঘদিন আবদ্ধ থাকার কারণে মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রিলের গায়ে আছড়ে পড়ছে। অথচ বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেপার্ডের শারীরিক প্রকৃতির সঙ্গে এই ধরনের খাঁচাবন্দি জীবন একেবারেই বেমানান। প্রাণীগুলোর চমৎকার লাফানোর ক্ষমতা ও সাঁতার কাটার সহজাত প্রবৃত্তি খাঁচার চার দেওয়ালের মাঝে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা পার্কটি পরিদর্শন করে একাধিকবার লেপার্ডের জন্য মানসম্মত আবাসন তৈরির নির্দেশ দিলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও লেপার্ড দুটির অপর্যাপ্ত আবাসন নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাণী অধিকারকর্মীদের মতে, এজাতীয় প্রাণীর জন্য ইনক্লোজারে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো ও উঁচুতে বিচরণের সুব্যবস্থা থাকা জরুরি, যা এই দীর্ঘ সময়েও নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষকরা মনে করেন, বন্দী দশায় দীর্ঘকাল থাকার ফলে প্রাণীগুলো তাদের শিকার ধরার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হারিয়ে ফেলতে পারে, তাই তাদের পুনরায় বনেই ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।

সাফারি পার্কের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়েছে যে নির্দিষ্ট বেষ্টনী না থাকার কারণেই লেপার্ড দুটিকে দর্শনার্থীদের সামনে উন্মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। পার্কের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, এই পার্কের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও বন্য প্রাণী সংকটের বিষয়টি বারবার সামনে চলে আসছে। অতীতে পার্কের সবকটি জিরাফ মারা যাওয়ার পর এখনো সেখানে নতুন জিরাফ না থাকায় দর্শনার্থী ও শিশুরা দারুণভাবে হতাশ হচ্ছে, যা বন্য প্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই ফুটিয়ে তোলে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com