উয়েফা নেশনস লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ে যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। লিসবনের এস্তাদিও জোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ওয়েলসকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে তারা। নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে এটি ছিল পর্তুগিজ দলটির প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচ, যেখানে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ফরোয়ার্ড জোয়াও ফেলিক্স। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিক পর্তুগাল এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে বেশ কিছু ভীতি সৃষ্টি করে।
ম্যাচের ২২ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই সাফল্য পায় পর্তুগাল দল। সতীর্থ নুনো মেন্দেসের বাড়ানো পাস ডি-বক্সের বাইরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক নিচু শটে জাল খুঁজে নেন জোয়াও ফেলিক্স। এই গোলের পর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ব্যবধান বাড়ানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদোর একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং অপর একটি গোল ভিএআর পরীক্ষার পর অফলাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ দিকে ওয়েলস সমতা ফেরানোর দুর্দান্ত কিছু সুযোগ তৈরি করে। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ব্রেনান জনসনের নেওয়া চিপ শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে এবং ফিরতি বলও গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন রুবেন দিয়াস। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতা আনতে লড়াই চালিয়ে গেলেও পর্তুগিজদের শক্তিশালী রক্ষণ দুর্গ ভেদ করতে পারেনি ওয়েলস দল। ফলে ফেলিক্সের ওই একমাত্র গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।
এদিকে নেশনস লিগের গ্রুপ-৪ এর অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল নরওয়ে ও ডেনমার্ক। অসলোতে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে আর্লিং হলান্ডের অসাধারণ নৈপুণ্যে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নরওয়ে। খেলার শুরুতেই দারুণ ছন্দে ছিল নরওয়েজিয়ানরা এবং ১৪ মিনিটে অস্কার ববের গোলে তারা ম্যাচে প্রথম লিড নেয়। এর মাত্র চার মিনিট পর আন্তোনিও নুসার বাড়ানো পাস থেকে নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড।
দুই গোল হজম করার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ডেনমার্ক দল। ম্যাচের ২৫ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে চমৎকার এক গোল করে ব্যবধান কমান মিকেল দামসগার্ড। এরপর খেলার দ্বিতীয়ার্ধে কর্নার থেকে আসা ফিরতি বলে হেড করে স্কোরলাইন ২-২ করেন রাসমুস হইলুন্দ। তবে শেষ পর্যন্ত ডেনমার্কের সব প্রতিরোধ ভেঙে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট তৈরি করেন হলান্ড, যিনি কাছের পোস্টে শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি করেন।