প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এ বছর বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে সরকার। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের আগেই ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে এবং সেদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের হারও লক্ষ্যমাত্রার বেশ কাছাকাছি পৌঁছেছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান থাকায় পুরো লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এমনকি তা ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বোরো সংগ্রহের এই সাফল্য খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। হাওর অঞ্চলে আগেভাগে সংগ্রহ শুরু, কৃষক নিবন্ধনের সুযোগ বৃদ্ধি, সরকারি গুদামে বস্তার সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে নিয়ম শিথিল এবং সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর মতো উদ্যোগগুলো এবার বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া সরকার এবার কৃষকদের জন্য লাভজনক মূল্য নির্ধারণ করায় সরকারি গুদামে ধান দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো।
খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে প্রায় ২৪ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি স্বস্তিদায়ক অবস্থান তৈরি করেছে। গত কয়েক বছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার হার বেশি থাকলেও, এবারের এই সফল সংগ্রহ কর্মসূচি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের খাদ্য মজুত ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।