October 8, 2026, 3:47 pm
সর্বশেষ সংবাদ:
চক্ষু স্বাস্থ্য উন্নয়নে ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইল সংযোগ চালু, যা বললেন মাস্ক গুণগত শিক্ষার বদলে ৯৫ শতাংশ পাসের রাজনীতি হয়েছে: রিজভী বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস সার্কিট হাউসে নতুন ভিসির রুদ্ধদ্বার বৈঠক, ১৭ দিনেও অচল চুয়েট ইলিশ বাংলাদেশের গর্ব, রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিহারে বিক্ষোভ, দিল্লিতে আজও মাঠে নামবেন বিরোধীরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটেই তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী: এমপি বুলু বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় রাবির ১৬ গবেষক ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, October 8, 2026
  • 14 Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের জ্বালানি খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের কার্যক্রমে গতি আনা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সাত মাসের মধ্যে দেশজুড়ে দ্রুতগতিতে মোট ৩২টি নতুন কূপ খনন সম্পন্ন করেছে সরকার। এসব সদ্য খননকৃত কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় জ্বালানি গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে গ্যাসের জোগান কিছুটা বাড়লেও ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোবাংলার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই ৩২টি কূপের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের রয়েছে ১৪টি, বাপেক্সের রয়েছে ১১টি এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে রয়েছে বাকি ৭টি কূপ। এসব কূপে দৈনিক প্রায় ১৩৪ দশমিক চার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রাথমিক প্রাক্কলন থাকলেও, হবিগঞ্জ-৫ কূপে আশানুরূপ গ্যাস পাওয়ায় বর্তমানে মোট উৎপাদন প্রায় ১৪৭ দশমিক নয় মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে গেছে। তবে পাইপলাইন সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কারণে সব কূপের উৎপাদন সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে দেশে প্রতিদিনের গ্যাসের চাহিদা প্রায় তিন হাজার আটশ মিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মোটে দুই হাজার ছয়শ মিলিয়ন ঘনফুট। এই সরবরাহের বড় একটি অংশ আসছে দেশীয় বিভিন্ন ক্ষেত্র ও আমদানিকৃত এলএনজি থেকে, যা চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যকার ব্যবধান ঘোচাতে বেশ বড় একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই ঘাটতি পূরণে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মোট ১৫০টি কূপ খননের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আরও সাতটি কূপের খননকাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু কূপ খনন করলেই চলবে না, বরং উত্তোলিত গ্যাস সময়মতো ও নির্বিঘ্নে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইন ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের পক্ষ থেকেও গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি, স্থলভাগের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের অফশোর ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াও জোরদার করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন কূপ খনন এবং পুরনো কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বর্তমান চলমান প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু নতুন প্রকল্প অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের দেশীয় উৎপাদন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে পরিকল্পনাগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে জ্বালানি সংকট অনেকাংশেই দূর করা সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com