September 30, 2026, 3:29 am

বিনা মূল্যের পাঠ্যবই: বইয়ের মানে এবারও শঙ্কা

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, September 30, 2026
  • 18 Time View

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য প্রস্তুতকৃত বিনা মূল্যের পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ে তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তদারকিতে বিভিন্ন ছাপাখানায় পরিদর্শন চালিয়ে অনিয়মের নানা চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। দরপত্রের নিয়ম অমান্য করে বইয়ে নিম্নমানের কাগজ ও কালি ব্যবহার করা হয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অনেক বইয়ের বাঁধাইয়েও গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়েছে, যা নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যত্যয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বই ছাপার কাজে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তদারকি সংস্থা এনসিটিবি। ইতিমধ্যে মানহীন কাগজ ব্যবহার এবং ছাপার ত্রুটির কারণে প্রায় সাত লাখ ফর্মা বাতিল করা হয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত চৌদ্দটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি নামের প্রতিষ্ঠানটিকেও শোকজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ছাপাখানার সঙ্গে যোগসাজশ করে মানহীন বইকে ছাড়পত্র দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, যদিও তারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে আশি জিএসএম এবং মাধ্যমিক স্তরের বইয়ে সত্তর জিএসএম কাগজ ব্যবহারের কথা রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান সেই নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে কম জিএসএমের নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করছে। এছাড়া দরপত্রে নির্দিষ্ট করা ব্র্যান্ডের কালির পরিবর্তে নকল ও নিম্নমানের কালি ব্যবহার করায় বইয়ের স্থায়িত্ব ও উজ্জ্বলতা নষ্ট হচ্ছে। এই সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন ছাপাখানায় আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়েছেন। অনিয়ম ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফর্মা কেটে ফেলা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা তলব করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির জন্য বিদ্যুৎ সংকটকে প্রধানত দায়ী করছেন। ছাপাখানাগুলোতে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় জেনারেটর চালিয়ে বাড়তি খরচে কাজ চালাতে হচ্ছে তাদের। এই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পথ বেছে নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে সব বাধা পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে উন্নতমানের পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে এনসিটিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক ছাপাখানায় পুরোদমে বই ছাপার কাজ চলছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com