প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, সরকার বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর দশা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধীরগতি এখনো অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোর সুফল পেতে ধৈর্য ধরার প্রয়োজন রয়েছে, আবার অনেকে বলছেন, কেবল নীতিগত উদ্যোগ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও এলসি সুবিধাসহ সরকারের বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপগুলোকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও জ্বালানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ব্যাংক খাতের অরাজকতা দূর করতে প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রেখে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
তবে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, আগের সরকারগুলোর নীতির ধারাবাহিকতাই বজায় থাকছে এবং জনস্বার্থের চেয়ে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা হওয়ার প্রবণতা এখনো রয়ে গেছে। তার মতে, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সামগ্রিকভাবে, সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের বড় মাপকাঠি হিসেবে জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিকেই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।