July 15, 2026, 6:54 am
সর্বশেষ সংবাদ:
বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস দিল্লিতে বসে হুংকার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা ৭৯ শতাংশ মার্কিনির ফ্রান্সকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন স্পেনকে পেনাল্টি দেওয়াটা কি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল? ৯৮ হাজার টাকায় হজযাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নারায়ণগঞ্জে বিদেশি পিস্ত\লসহ গ্রেপ্তার যুবক ফ্রান্স ও স্পেনের শুরুর একাদশে কারা আছেন ‘ফকল্যান্ড নয়, ফুটবলে মনোযোগ দিন’- ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে বললেন আর্জেন্টাইন যোদ্ধারা শিক্ষামন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

বৃষ্টিতে ক্রেতা কম, বেড়েছে কিছু পণ্যের দাম

Reporter Name
  • Update Time : Monday, July 13, 2026
  • 25 Time View
40

টানা ভারী বর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় গতকাল রোববার বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটা স্থবির ছিল। এর প্রভাব পড়ে বাজারেও। টানা বৃষ্টির কারণে একদিকে বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি ছিল কম, অন্যদিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশ কিছু সবজি ও মাছের দাম বেড়েছে।

গতকাল মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, তেজগাঁও কলেজ কাঁচাবাজার, বিমানবন্দর এলাকার হজ ক্যাম্প বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। প্রায় সব বাজারেই কিছু দোকানপাট খোলা ছিল, কিছু ছিল বন্ধ।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সকাল থেকে এসব বাজারে ক্রেতা ছিল না বললেই চলে। তবে দুপুরের পর বৃষ্টি কমলে বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে।

শনিবার গভীর রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর গ্রিন রোড, পান্থপথ, ধানমন্ডি, মিরপুরের কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরপানি জমে যায়। মোহাম্মদপুরের রাস্তাঘাটেও অনেক স্থানে পানি জমে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যান এই প্রতিবেদক। সে সময় ওই এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মাঝে বেশ কিছু দোকানে বিক্রেতারা পণ্য নিয়ে বসে ছিলেন। মাছ বাজারের প্রায় অর্ধেক দোকান তখন বন্ধ ছিল। সে সময় ছাতা মাথায় মাত্র তিনজন ক্রেতা দেখা গেল। তাঁদের একজন একরামুল হাসান। তিনি বলেন, ‘বাসায় মাছ-মুরগি নেই। তাই বৃষ্টির মধ্যে বাজারে এসেছি। মুরগির দাম দুই সপ্তাহ ধরেই বেশি। আজ (গতকাল) কই মাছের দামও কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে।’

কয়েকজন মাছ বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রুই, তেলাপিয়া, শিং, কই, পাবদাসহ বেশির ভাগ মাছ অন্যান্য দিনের তুলনায় ২০-৫০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে। কৃষি মার্কেটের মাছ বিক্রেতা খোকন চন্দ্র দাস বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে মাছের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়েছে।’

মাছের পাশাপাশি কিছু সবজির দামও বেড়েছে। মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আল-নাহিয়ান জানান, গত দুই দিনে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা করে বেড়েছে। বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচ, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, লাউ, লেবু, শসার দাম।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিন-চার দিন আগে যা ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ কেজিতে ৪০ টাকা দাম বেড়েছে। শসা ও ঝিঙার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে।

বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইমরান মাস্টার বলেন, গত দুই দিনে রাজধানীতে বিভিন্ন সবজির ট্রাক আসা স্বাভাবিক দিনের চেয়ে কমে গেছে। টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক ফসলি জমিতে পানি ঢুকেছে। তাই সামনের দিনগুলোতেও সবজির সরবরাহ কিছুটা কম থাকতে পারে।

নিউমার্কেট সাময়িক বন্ধ

প্রবল বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানপাট বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানপাটের বিদ্যুৎ-সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির অফিস সেক্রেটারি ফিরোজ উল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, শনিবার দিবাগত রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টির কারণে নিউমার্কেট এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ জন্য রোববার সকাল থেকে নিউমার্কেটের দোকানপাট খোলা হয়নি। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে ক্রেতাও আসেনি।

নিউমার্কেট ছাড়াও শনিবার মধ্যরাত থেকে বৃষ্টির কারণে রাজধানীর মিরপুর, ধানমন্ডি, ঝিগাতলাসহ বিভিন্ন এলাকা ও সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে এসব এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও একধরনের স্থবির অবস্থা ছিল।

খুচরা ব্যবসায়ীদের লোকসান

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টির এই ধারা আরও কিছু সময় থাকতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খান। যেমন মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রতিদিন সকাল থেকে অর্ধশতাধিক ভাসমান পোশাক বিক্রির দোকান বসে। গতকাল দুপুরে সেখানে গিয়ে সবগুলো দোকানই বন্ধ দেখা গেছে।

গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরে রিংরোডের পাশে টিক্কাপাড়ার গলিমুখে কথা হয় ফল বিক্রেতা মো. জিয়ার সঙ্গে। ওই সময় মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছিল। এর মধ্যেই ফলের ভ্যানের পাশে ক্রেতার আশায় একটা পাতলা রেইনকোট পরে দাঁড়িয়েছিলেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

মো. জিয়া জানান, স্বাভাবিক দিনগুলোতে দুপুরের আগেই দুই–তিন হাজার টাকার ফল বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু গতকাল দুপুর পর্যন্ত পকেট প্রায় খালি ছিল। সকাল থেকে মাত্র একজনের কাছে ৮০ টাকার ফল বিক্রি করতে পারেন তিনি। মো. জিয়া বলেন, আসলে এমন বৃষ্টিতে কেউ বাসা থেকে বের হতে চায় না।

গায়ে রেইনকোট থাকলেও পানিতে পা ভিজেই যাচ্ছে। বৃষ্টিতে শরীর ভেজার কষ্ট নিয়ে জিয়া বলেন, ‘বৃষ্টিতে ঠান্ডা তো লাগে, কিন্তু কী করার আছে? দোকান যখন খুলছি, হালকা–পাতলা ভেজা লাগবই।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com