August 18, 2026, 5:37 am
সর্বশেষ সংবাদ:
চট্টগ্রামে ২৬ আগস্ট জশনে জুলুস, নেতৃত্ব দেবেন আল্লামা সাবির শাহ হাটহাজারীতে যুবককে গুলি করে পালালো দুর্বৃত্তরা বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন নিয়ে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন আজ পদোন্নতির জন্য চিকিৎসকদের এইচআরআইএস প্রোফাইল হালনাগাদের নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর নির্দেশ ডেমরায় বোমাসহ গ্রেফতার দুজন রিমান্ডে বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ পেছালো, পরবর্তী তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর বগুড়ায় জামায়াত সমর্থিত ৭ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান এফবিসিসিআই’র কার পার্কিং নিয়ে তর্ক, জনসম্মুখে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লেন যুবক

ভালো ড্রেস না থাকায় কোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেতাম না : মারুফা

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, October 11, 2025
  • 199 Time View
217

চলমান নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন মারুফা আক্তার। এই পেসারের পেস-সুইংয়ে দিশেহারা বিশ্বের বড় বড় ব্যাটাররা। লাসিথ মালিঙ্গা থেকে শুরু করে নাসের হোসেন—ক্রিকেট বোদ্ধাদেরও প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। জাহানারা আলম পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ দলের পেস বোলিংয়ের কাণ্ডারি ভাবা হচ্ছে তাকে।

যদিও মারুফার উঠে আসার পথ এতটা মসৃণ ছিল না। বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে সাহায্য করছেন মারুফা সেই ছবিটি অনেকেরই মনে থাকার কথা। কর্দমাক্ত জমিতে শক্ত হাতে লাঙলের হাল ধরে জমি চাষ করেছিলেন মারুফা। সেই অদম্য ছবিটি আজও অনেক উঠতি ক্রিকেটারের প্রেরণা হয়ে আছে। চরম দারিদ্র্যতা ও সমাজের কটুকথা, অবজ্ঞা পেছনে ফেলে আজ বিশ্ব মঞ্চে লা-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করছেন মারুফা।

সম্প্রতি আইসিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন এই পেসার। এসময় চোখের পানি আটকাতে পারেননি তিনি।

নীলফামারীর সৈয়দপুরের হতদরিদ্র এক পরিবারে জন্ম মারুফার। ৬ সদস্যের পরিবারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। নিজেদের জমি না থাকায় অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করতেন মারুফার বাবা। বাবার কাজে সাহায্য করতেন মারুফারাও। আর্থিক দুর্দশার কারণে ভালো জামাকাপড় গায়ে জড়াতে পারতেন না। যে কারণে সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে আত্মীয়রাও তেমন ডাকতেন না।

সে কষ্টের কথা বলতে গিয়ে মারুফা বলেন, ‘কোথাও যদি বিয়ে বা কোনোকিছু (অনুষ্ঠান) হয়, দাওয়াত দেয় না? আমাদেরকে সেটাও দিতো না। বলতো ওদের ড্রেস নাই, ওইখানে গেলে আমাদের মান সম্মান থাকবে না। এরকম বলতো অনেকে। একটা সময় ছিল যখন আমরা ঈদেও নতুন জামা কিনতে পারিনি।’

কোথাও যদি বিয়ে বা কোনোকিছু (অনুষ্ঠান) হয়, দাওয়াত দেয় না? আমাদেরকে সেটাও দিতো না। বলতো ওদের ড্রেস নাই, ওইখানে গেলে আমাদের মান সম্মান থাকবে না। এরকম বলতো অনেকে। একটা সময় ছিল যখন আমরা ঈদেও নতুন জামা কিনতে পারিনি।

মারুফা বলেন, ‘আমার বাবা একজন কৃষক। আমাদের ওইরকম পয়সাকড়ি ছিল না। আব্বা যখন বাসায় ছিল না, বাজারে যেত তখন মাকে এসে অনেকে অনেক কথা বলতো। অনেক খারাপ খারাপ কথা বলে যেগুলা নেওয়ার মতো না। আমার মা রুমে গিয়ে কান্না করতো। আমি আবার গিয়ে এক কোণায় কান্না করতাম যে আমার জন্য এতকিছু হচ্ছে।’

সমাজের মানুষের কটু কথা দমিয়ে রাখতে পারেনি অদম্য মারুফাকে। দৃঢ় মনোবল, প্রবল ইচ্ছাশক্তিতে তিনি আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গন মাতাচ্ছেন। টাইগ্রেস এ পেসার বলেন, ‘আমি ভাবতাম ঠিক আছে, আমি একদিন ভালো কিছু করে দেখাব। এখন আমরা যেরকম অবস্থাতে এসেছি, অন্যরা এখন সেরকম জায়গায় নেই। আমি যেভাবে ফ্যামিলিকে সাপোর্ট করছি, অনেক ছেলেরাও হয়তো সেভাবে পারছে না। এটা অন্যরকম একটা শান্তি দেয়। ছোটবেলায় ভেবেছি মানুষ কবে আমাদের এভাবে দেখবে, হাততালি দিবে, এখন টিভিতে (নিজেকে) দেখলে লজ্জা লাগে (হাসি)।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com